সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন ওসি শ্যামল বণিক। ৯ জুন ২০২৪ইং সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে মাসিক কল্যান সভায় অধিক সংখ্যাক মামলা নিষ্পত্তি ও গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখায় মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব এহ্সান শাহ, পিপিএম-সেবা (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নাতি প্রাপ্ত) সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে শ্যামল বণিক কে পুরস্কিত করেন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ইং সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন শ্যামল বণিক। যোগদান পরবর্তীতে নিষ্ঠারসহিত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ওসি শ্যামল বণিক বলেন, থানায় আগত ভিকটিমের চাহিত সেবা অত্যান্ত আন্তরিকার সহিত পালন, ধর্তব্য অপরাধের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা, মামলা রুজু, অপরাদিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, অপরাধীকে বিচারাত্রে বিজ্ঞ কোর্টে প্রেরন করা। বিশ্বম্ভরপুর থানায় যোগদানের পর হইতে ৫টি খুন মামলায় ০৯ জন আসামী আটক, ১জন আসামী ১৬৪ ধারায় জবান বন্দি প্রদান, মাদকের ভয়াবর ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা, ২০টি মাদক মামলায় ২৮ জনকে আটক, ৭৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫কেজি ২০৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার, শুল্ক ফাঁকি দিয়া অবৈধভাবে চোরাচালান মাধ্যমে মালামাল নিয়া অবৈদ কালো বাজার বন্ধে ২১টি চোরাচালান মামলায় ৩৩জন আসামী আটক, ৩০১ বোতল ভারতীয় মদ, ২৬৭ বস্তা ভারতিয় চিনি, ৪টি ভারতীয় গরু, ১১৫০/-টাকার জাল নোট, ৫০ বস্তা পেয়াজ উদ্ধার, চুরি, ডাকাতি, চিনতাই, দস্যুতা রোধ কল্পে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা, ৮ টি চুরি মামলার মোট ১২ জন আটক, ১৩টি চোরাই গরু উদ্ধার, ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন (ধর্ষন) মামলায় ২জন আসামী আটক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩টি মামলায় ৩জন আসামীকে আটক, পেনাল কোড আইনের অপহরন মামলার ভিকটিম উদ্ধার, ৫১টি জিআর তামিল (বডি), ৪৮ টি সিআর তামিল (বডি), ৮ টি জিআর সাজা ও ০৩ টি সিআর সাজা তামিল (বডি) তামিল করিয়া বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ, ১১জন নিখোঁজ ভিকটিম উদ্ধার করিয়া তাদের পরিবারের লোকজনকে বুঝাইয়া দেয়া। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর২০২৩ইং পর্যন্ত অধিক সংখ্যাক মামলা নিষ্পত্তি ও গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখায় ডিআইজি সিলেট রেঞ্জের নিকট হতে শেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন শ্যামল বণিক।
ওসি শ্যামল বণিক আরো বলেন, থানা কম্পাউন্ডের ভিতর ভবনের সামনে অত্যন্ত যত্ন ও আন্তরিকতার সাথে শীতকালীন ফুলের বাগান তৈরী, প্রতিদিন ফুলের বাগান যথাযথ ভাবে পরিচর্যা করা হচ্ছে। সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য ফুলবাগানের প্রতিটি সারির ইট এবং বাহিরের পাকা বর্ডার রং করানো হয়েছে। অফিসার-ফোর্সদের ফিটনেস রক্ষার স্বার্থে থানার প্রত্যেক অফিসার-ফোর্স ফুটবল খেলায় ব্যাবস্থা, থানা ভবনের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিসহ থানার ভবনে ডিউটি অফিসারের কক্ষের দক্ষিন পাশ্বের এ্যালুমিনিয়াম ও গ্লাস ব্যবহার করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভাবে নারী শিশু ডেস্ক এবং সার্বিস ডেস্ক তৈরী করা হয়েছে। ডেস্কটি অস্বচ্ছ গ্লাস দিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা হয়েছে। এতে ভবনের সৌন্দয্য ও কাজের মান বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হেল্প ডেস্কে সেবা প্রার্থীদের সুবিধার জন্য যথাযথ বসার ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য খেলনা সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হইয়াছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হেল্প ডেস্কে মা কর্তৃক শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো সুবিধার্থে অত্যন্ত সুন্দর ভাবে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।
এলাকার যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা ও ক্রিড়া মুখী করার লক্ষ্যে বিশ্বম্ভরপুর থানার পক্ষ থেকে ফুটবল টিম, কাবাডি টিম গঠন করে থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রীতি ম্যাচ খেলা এবং মাদক, বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সহ সকল ধরনের অপরাধ থেকে লোকজনকে দূরে সরে আসার আহব্বান করা। থানার অফিসার-ফোর্সের কাজের উৎসাহ প্রদানের জন্য থানায় প্রতিমাসে এসআই, এএসআই, কনস্টেবল ৩টি ক্যাটাগরিতে ভালো ও আন্তরিক কাজের জন্য পুরুষ্কার প্রদান করা হয়। থানার সকল অফিসার ফোর্সের রক্তের গ্রুপ সংগ্রহ করা এবং নিয়মিত ভাবে রক্তা দানে থানার অফিসার-ফোর্সকে উৎসাহ প্রদান।
তাছাড়া অফিসার ইনচার্জ জনাব শ্যামল বনিক নিয়মিত ভাবে রক্ত দান করে আসছেন। করোনা জয় করার পর প্লাজমা প্রদানেও অফিসার ইনচার্জ জনাব শ্যামল বনিক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। জনাব শ্যামল বনিক বিশ্বম্ভরপুর থানায় যোগদানের পর থানা বিল্ডিং সহ থানার কম্পাউন্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অগ্রণী ভূমিকা রাখা হচ্ছে। পূর্বের যে কোন সময়ের থেকে বিশ্বম্ভরপুর থানা বিল্ডিং এবং থানা কম্পাউন্ড পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে অনেকে এগিয়ে। বিশ্বম্ভরপুর থানার প্রতিটি বাজারের নাইট গার্ডদের মধ্যে লাইট, বাশি বিতরণ এবং বাজার কমিটি সহ ব্যবসায়ীদের উক্ত কাজে উৎসাহ প্রদান করে আসছেন ওসি শ্যামল বণিক।
মুফিজুর রহমান নাহিদ




















