সিলেটের অবুঝ শিশু জানে না তার মা কখনও জেগে উঠবে না

  • প্রকাশের সময় : ১২/০৫/২০২৪ ০৮:০৫:২১ AM

মায়ের বুকের উষ্ণতা আর পাবে না শিশুটি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

Share
61

হাসপাতালের স্ট্রেচারে নারীর নিথর দেহ। মাথায় ব্যান্ডেজ। তাঁর বুকের ওপর শুয়ে কাঁদছে এক বছরের শিশু। তার মাথায়ও ব্যান্ডেজ। পাশে থাকা চিকিৎসক-নার্স কেউই শিশুটির কান্না থামাতে পারছেন না। আধো আধো বুলিতে মা মা ডাকলেও সাড়া নেই।

গত শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের এই দৃশ্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি কেউ। শিশুটির কান্নার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতের কোনো একসময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন জায়েদা (৩২) ও তাঁর শিশুপুত্র জাহিদ হোসেন। 

ভোরে কে বা কারা তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এর পর সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে জায়েদার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে শিশু জাহিদ। ঘটনার পর থেকে তাদের পরিচয় মিলছিল না। স্বজনের খোঁজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির ছবি পোস্ট করেন অনেকে। পুলিশও নানাভাবে পরিচয় জানার চেষ্টা চালায়। অবশেষে শনিবার রাতে স্বজনের খোঁজ মেলে।

জায়েদা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার কুশিউড়া গ্রামের রমিজ উদ্দিনের মেয়ে। ছেলে জাহিদ হোসেনকে নিয়ে তিনি ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় থাকতেন।

ভালুকা ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় জায়েদা ও তাঁর ছেলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি পুলিশ। পরে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মা ও সন্তানকে পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধার করে কে বা কারা ওই হাসপাতালে নিয়েছিলেন, জানা যায়নি। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে ময়মনসিংহ মেডিকেলে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। শিশুটির মা সেখানে মারা গেছেন। শনিবার রাতে তাদের শনাক্ত করেন স্বজন। তারা আসার পর অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য তারিকুল ইসলাম আহত জাহিদ ও তার মাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করেন। তারিকুল বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে এবং তার মাকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জায়েদা মারা যান। মরদেহ হাসপাতালের লাশ ঘরে রাখা হয়েছে। জায়েদার ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

শিশুটি মাথায় আঘাত পেয়েছে। তাকে সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে চিকিৎসক ফারজানা আক্তার বলেন, বাচ্চাটিকে ওয়ার্ডের অন্য রোগীর স্বজনরা দেখভাল করছেন। সে অনেক কাঁদছে। হাসপাতালে ভর্তি অন্য রোগীর স্বজনের মাধ্যমে তাকে দুধ খাইয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেলের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন বলেন, আমরা নিয়মিত শিশুটির খোঁজখবর নিচ্ছি। সে সুস্থ আছে।


সিলেট প্রেস / ১২ মে ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৪-০৫-১২ ০৮:০৫:২১