সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমেরিকান প্রবাসীকে প্রতারিত করে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের পৌর বিপণির রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন আমেরিকান প্রবাসী নজরুল। তিনি মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের হাজী আব্দুস সোবাহানের পুত্র।
অবশ্য অভিযুক্ত শিক্ষিকা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে আমার কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা, আইফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়েছেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি আমার পাঠানো ১৫-২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার দুই বোনের সরকারি চাকরি ও বিয়ের জন্য আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। আমি সরল চিন্তা থেকে ব্যাংক মারফত এবং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে দফায় দফায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাঠিয়েছি। এর বাইরেও ওই শিক্ষিকা আমাকে বিয়ের প্রলোভনে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাসে মাসে হাতখরচের টাকাসহ আইফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়েছে আমার কাছ থেকে।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমি দেশে আসতে চাইলে ওই শিক্ষিকা বাধা দিতেন। তিনি চাকরি ছেড়ে উন্নত জীবনের জন্য আমেরিকায় আমার কাছে আসার ইচ্ছা জানান। আমেরিকায় আসার জন্য সরকারি ছুটিতে আমার টাকায় ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে আইইএলটিএস করেন। তিনি নিজের পেশাগত পরিচয় আড়াল করে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে একটি ও সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আরেকটি পাসপোর্ট বানান।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, একটা সময় পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক চলছিল; কিন্তু ওই শিক্ষিকা আমার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালে একাধিক ছেলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেন, যা প্রথমে আমি জানতাম না। পরে বিভিন্ন মারফতে ও তার আচরণে বিষয়টি বুঝতে পারি। আইইএলটিএস করার সময় একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হন। দু-এক মাস আগে ওই শিক্ষিকা গোপনে সেই ছেলেকে বিয়ে করেন।
স্কুলশিক্ষিকার আচরণে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নজরুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। তিনি বলেন, আমাকে এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নারী নির্যাতনের মামলা দেবে বলে হুমকি দিচ্ছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা সাংবাদিকদের দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এক সাংবাদিককে বলেন, নজরুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হওয়ার পর আমি না চাইতেই তিনি হাত খরচ বাবদ টাকা পাঠাতেন। তিনি যত টাকার কথা বলছেন এত টাকা নয়। আবার আরেক সাংবাদিককে বলেন, ওই প্রবাসীর সঙ্গে আমার সরাসরি কোনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। বিভিন্ন সময় ভিডিও কলে কথা হয়েছে। এরই সূত্র ধরে তিনি আমার ভাইদের বিদেশে নেওয়ার জন্য আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।




















