অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থসামাজিক অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মিত হয় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন।
তবে সেখান থেকে কোনো উপকারই পাচ্ছেন না স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের পর পেরিয়ে গেছে তিন বছর। তবে এখনও সেখান থেকে কোনো সুফল পাচ্ছেন না তারা। বাণিজ্যিকভাবে অনুপযুক্ত জায়গায় ভবন নির্মাণ ও মূল ফটক প্রধান সড়কের আড়ালে থাকায় এখন পর্যন্ত ভবনের কোনো কক্ষ আয়ের জন্য ভাড়া দিতে পারেনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাবিষয়ক আহ্বায়ক কমিটি।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর মতবিনিময় সভায় উপজেলার স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ মজুমদার ভবনের মূলক ফটক ও প্রথম তলার কক্ষগুলোকে প্রধান সড়কমুখী করে পুনর্র্নিমাণের দাবি জানান। মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক ভবনটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
ধর্মপাশা থানার কিছুটা পূর্বদিকে কংস নদের পাড় ঘেঁষে ২ কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭১ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি। ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে পরের বছরের মাঝামাঝি কাজ শেষ হয়। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে বাছেদ প্রকৌশলী ও মেসার্স আনোয়ারা এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর ভবনটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দোকান, হলরুম ভাড়া এবং তৃতীয় তলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস ও সম্মেলন কক্ষ হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়েছে। ভবনের উত্তর পাশে সীমানাপ্রাচীর ও পূর্বদিকে মূল ফটক। ফলে মূলক ফটক উত্তর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া উপজেলার প্রধান সড়কের আড়ালে থাকে। যে কারণে কেউ এ ভবনে দোকান ভাড়া নিতে চায় না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও কেউ আগ্রহ দেখায়নি। ফলে ভবনটি থেকে কোনো আয় পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ মজুমদার জানান, অনেক ব্যবসায়ী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিতে যোগাযোগ করলেও পরে ভবনটি সড়কমুখী না হওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে ভবনের কোনো অংশই ভাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে ভবনটি থেকে কোনো উপকারই পাচ্ছেন না স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভবনটি যাতে কাজে লাগানো যায় এবং উপার্জনের পথ সুগম হয়, জেলা প্রশাসক সেভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইউএনও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন জানান, আয়বর্ধক কাজে ব্যবহারের জন্য এ ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো যাতে ভাড়া দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সভাপতি সরফরাজ খান পাঠান জানান, স্থান নির্বাচনে কিছুটা ভুল হয়েছে এবং সড়কের বিপরীতমুখী স্থাপনাটি নির্মাণে পরিকল্পনার অভাব দৃশ্যমান। এখন এ ভবনে কেউ ভাড়া নিতে চাইছে না।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন জানান, নির্মাণের সময় কথা না বলে এখন কথা বলে লাভ কী? তবে মূল গেট সড়কমুখী হলে কিছুটা ইতিবাচক হতো।




















