সড়ক নেই, অথচ দুই পরিবারকে সুবিধা দিতে সরকারি অর্থে হচ্ছে ব্রিজ। আশ্চর্য হলেও এরকম ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জে। দুই পরিবারের সুবিধার জন্য সরকারি অর্থে দু’টি ব্রিজ নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে ব্যক্তিগত দুই পরিবারের জমিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসব ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজের রাস্তা দুই বাড়ি পর্যন্তই। তাই ব্রিজগুলো এলাকার অন্য কারও কাজে আসবে না। পরে আর কোনো রাস্তা নেই বলে জানান স্থানীয়রা। তবে শান্তিগঞ্জ প্রকল্প কর্মকর্তা বলেন, এক সময় রাস্তা ও জনবসতি হবে এ এলাকায়। এতে সরকারের কোনো অর্থ অপচয় হচ্ছে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় ৪টি ব্রিজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদার বিপ্লব দে। এরমধ্যে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের নিখিল দেবের বাড়ি এবং এডভোকেট রাধাকান্তের বাড়ির সামনে মালিকানা জমিতে পৃথক দু’টি ব্রিজ একসঙ্গে নির্মাণ হচ্ছে। নিখিল দেবের বাড়ির সামনে যে ব্রিজটি নির্মিত হচ্ছে, তার ৭০০ মিটার দূরে পুরনো আরেকটি ব্রিজ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গ্রামের সবাই আগের ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। নির্মাণকৃত এই ব্রিজ শুধু নিখিলদের পরিবারের কাজেই লাগবে। এ ছাড়া এই ব্রিজ নিখিলদের মালিকানা জমিতে হচ্ছে। তারা নিষেধ করলে কেউ চলাচল করতে পারবে না এই ব্রিজ দিয়ে। অপরদিকে শুক্রমর্ধন এলাকার রাধাকান্তের বাড়ির সামনে যে ব্রিজটি নির্মিত হচ্ছে, তাও মালিকানাধীন জমিতে। এই ব্রিজ দিয়ে চলাচলের দৃশ্যমান আপাতত কোনো সড়ক পথ নেই। এই ব্রিজ শুধু দু-একটি পরিবারের জন্য সুবিধা হবে। বাকি গ্রামের মানুষদের রাস্তা সামনে দিয়ে আছে। এলাকায় অনেক গ্রাম ও পাড়া রয়েছে, যেখানে ব্রিজের প্রয়োজন। অথচ সেখানে ব্রিজ হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন ভুঞা জানান, ব্রিজগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চাহিদার ভিত্তিতেই এখানে নির্মাণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। ব্রিজ এলাকায় আপাতত বসতি কম হলেও এক সময় বসতি এবং রাস্তা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ব্রিজ দু’টির বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন। যারা নিজেদের জায়গায় ব্রিজগুলো করতে দিয়েছেন তারা লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন ব্রিজগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।




















