ছাতক উপজেলায় রেলওয়ে বিভাগের জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর আবারও সেগুলোতে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। বর্তমানে ছাতক-সিলেট রেলওয়ে বিভাগের কয়েক কোটি টাকার সরকারি জমি বেদখলে রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এভাবে বেদখল হচ্ছে রেলের সরকারি জমি। রেললাইনের সীমানা ঘেঁষে প্রতিনিয়তই বাড়ছে অবৈধ স্থাপনা। কোথাও স্থায়ী আবার কোথাও অস্থায়ীভাবে এসব জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে মার্কেট ও দোকানঘর।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও কথা রাখতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। দুই বছর আগে কর্তৃপক্ষ তাদের জমির ওপর নির্মিত বেশ কয়েকটি
অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বছর না ঘুরতেই স্থানীয় লোকজন সেগুলো বেদখলে নিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি ছাতক উপজেলার ছাতক বাজার রেলস্টেশন থেকে শুরু করে গোবিন্দগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত রেললাইনের পাশে কয়েক শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর আগে মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দিলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অবৈধ দখলকারী ব্যবসায়ীদের মাঝে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নোটিশও দেওয়া হয়। এই রকম ঘোষণার পর ছাতক বাজার ও গোবিন্দগঞ্জের বেশ কিছু জায়গার ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে তাদের স্থাপনা ও দোকানের মালপত্র সরিয়ে নেয়। ওই উচ্ছেদের সময় কিছু অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হলেও অজ্ঞাত কারণে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় পুরোপুরি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি।
এদিকে ছাতক ও গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছৈলা আফজালাবাদ এলাকায় রেলওয়ের বিভাগের রেললাইনের পাশে বিশাল পরিমাণে জমি রয়েছে বেদখলে। ছাতক-সিলেট রেলপথের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার সুযোগে ছৈলা আফজালাবাদ ও খাজানশ্বি রেলস্টেশনের প্রতিটি ঘর ও আশপাশের জমি বেদখল হয়ে গেছে। এসব স্টেশনের ভেতরে নিয়মিতই চলছে জুয়ারি ও মাদকসেবীদের আড্ডা। রেলের এসব জমির বেশির ভাগই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও অনেকে লিজ ছাড়াই কোটি টাকার জমি বেদখল করে দোকান ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানায়, রেলওয়ের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও নজরদারির অভাবে আবার সেগুলো বেদখল হচ্ছে। যে কারণে উচ্ছেদ অভিযানের কোনো সফলতা মিলছে না। সরকারি জায়গায় মার্কেটের মালিকরা বড় অঙ্কের টাকায় দোকানভিটা ভাড়া দিয়ে ভাড়ার টাকা নির্বিঘ্নে হজম করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলদারদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা সবকিছু ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছেন।
ছাতক বাজার স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিলেট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু নাসের মো. রাসেল জানান, রেলওয়ে বিভাগের জমির ওপর প্রচুর অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ছাতক-সিলেট রেলপথের নতুন রেললাইনের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। রেললাইনের কাজ শুরু হলে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
রেলওয়ে বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত) সিরাজ জিন্নাহ জানান, রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয় দেখার দায়িত্ব তাঁর নয়, রেলওয়ে ভূমি বিভাগের। এরপরও এই অঞ্চলের রেলের জমিতে অবৈধ দখলকারীদের বিষয়ে ভূমি বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হবে।




















