মধ্যনগরে কিষানির কাছ থেকে ঘুষ নিলেন ইউএনও কার্যালয়ের দুই কর্মী

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০২/২০২৪ ০২:০১:২৯ AM

ছবি- প্রতীকী

Share
49

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক কিষানির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন ইউএনও।


অভিযুক্ত দুই কর্মচারী হলেন– অফিস সহকারী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা ও নুরুল আমিন মোল্লা। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, ইউএনওই তাঁকে ওই দুই কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।


ওই কিষানির অভিযোগ, কোনো ভুক্তভোগী ইউএনওর কাছে গেলে শামসুদ্দোহা ও নুরুল আমিন তাদের নিজেদের শিকার বানিয়ে ফেলেন। পরে সেসব ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ঘুষ আদায় করেন।


জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ দর্শী চাকমার কাছে যান উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের গড়াকাটা গ্রামের কিষানি জমিলা খাতুন। তাঁর অনুমোদিত সেচ পাম্প সীমানার ভেতরে একই গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুলের অবৈধ সোলার সেচ পাম্প উচ্ছেদের জন্য ইউএনওর শরণাপন্ন হন তিনি। ইউএনও তাঁকে শামসুদ্দোহা ও নুরুল আমিনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আব্দুলের অবৈধ সোলার সেচ পাম্প উচ্ছেদের জন্য জমিলার কাছে তারা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে ওইদিন ঘুষের নগদ ৩০ হাজার টাকা দেন কিষানি। পরে গত ১৪ জানুয়ারি জমিলা সুদে টাকা নিয়ে শামসুদ্দোহার কাছে ঘুষের বাকি আরও ২০ হাজার টাকা পাঠান বিকাশ নম্বরে। 


ইউএনও অফিসের অফিস সহকারী শামসুদ্দোহা ও জমিলার আত্মীয় আবুলের বিকাশে ঘুষ লেনদেনের একটি ফোন কলের অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। 


জমিলা খাতুন সোমবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, ‘আমি পথের ভিখারি হয়ে গেছি ভাই। তিন বছর হয় দৌড়াইতেছি। সর্বশেষ আমি আরেকজনের কাছ থেকে লাভে (সুদে) টাকা এনে শামসুদ্দোহা ও নুরুল মোল্লাকে দিয়েছি।’ 


জমিলা খাতুনের আত্মীয় আবুল মিয়া বলেন, দুই দফায় ঘুষের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তারা কোনো কাজ করেনি।


অভিযুক্ত শামসুদ্দোহা বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে কোনো কাজের কথা বলে টাকা নিইনি। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আরেক অভিযুক্ত অফিস সহকারী নুরুল আমিন মোল্লার ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 


ইউএনও অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ দিলেই আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। একই সঙ্গে এই সেচ পাম্পের বিষয়ে উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।



সিলেট প্রেস / ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০২-০৭ ০২:০১:২৯