সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি বীরনিবাস নির্মাণকাজ কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কার্যাদেশ ও চুক্তি এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বীরনিবাস নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১ কোটি ২০ লাখ ৫৫৯ টাকা ব্যয়ে ৯টি বীরনিবাস নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২২ সালের মার্চ মাসে ওই বীরনিবাসগুলোর নির্মাণকাজ আরম্ভ করে তা পরের বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহঠিকাদার হিসেবে চুন্নু মিয়া নামে এক ব্যক্তি বীরনিবাস নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু শুরু থেকে সহঠিকাদার নিম্নমানের ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে বীরনিবাসের নির্মাণকাজ করায় মুদাহরপুর গ্রামের উপকারভোগী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. আমিনা ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ওমর ফারুকের ছেলে হাবিবে দুজাহান ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও দুইবার কাজ পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান।
কিন্তু উপকারভোগীরা অভিযোগ করার কারণে চুন্নু মিয়া ২০২২ সালের ২৯ মার্চ থেকে ওই দুটি বীরনিবাসের কাজ বন্ধ করে দেন। পরে ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাবিবে দুজাহান উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনওকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিলে ইউএনও ঠিকাদারের জামানত বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নির্দেশ দেন।
২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইউএনও চুন্নুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাইলে উপকারভোগী একজন মুক্তিযোদ্ধার অনুরোধে চুন্নুকে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ক’টি বীরনিবাস নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। পরে চুন্নু স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি নেন। কিন্তু ইউএনওর বেঁধে দেওয়া সময়েও কাজ শেষ করতে পারেননি চুন্নু। এদিকে গত বছরের ১৬ মার্চ ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট কাজ শেষ করার জন্য তিন মাস সময় বর্ধিত করেন। কিন্তু আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে গত বছরের ৩০ আগস্ট ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের নেতারা মানববন্ধন করে এ কাজের সঙ্গে জড়িত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনকে অভিযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলসহ তাঁর শাস্তি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন জানান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তাঁর কাছ থেকে বীরনিবাস নির্মাণকাজ ১ লাখ টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে চুন্নুকে কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এ কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন বলেন, জানুয়ারি মাসের মধ্যে বীরনিবাসের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কাজ শেষ করতে পারেনি। ঠিকাদারের কার্যাদেশ ও চুক্তি এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




















