জগন্নাথপুরে ট্রাক্টরে করে পরিবহনের সময় সেখান থেকে পড়া পিচ্ছিল মাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সড়ক। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়রা জানান–বিভিন্ন হাওর, নদ-নদী ও খাল থেকে এসব মাটি সংগ্রহ করা হয় বলে সেগুলো ভেজা ও পিচ্ছিল কাদামাটি হয়। এই মাটি ট্রাক্টর করে নেওয়া হয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। পরিবহনের সময় ট্রাক্টর থেকে এই ভেজা মাটি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে যায় পাকা সড়ক, যার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে জগন্নাথপুর মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো। প্রতিনিয়ত এসব সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে এসব সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা পড়েছেন ব্যাপক দুর্ভোগে।
হালকা বৃষ্টিতে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে কাদামাটি লাগা জগন্নাথপুর মহাসড়ক। এর পর দিন ওই সড়কে আলাদা চার স্থানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক, জগন্নাথপুর- বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কসহ গ্রামীণ সড়কে প্রতিদিনই সরকারি প্রকল্প ও ব্যক্তিগত কাজে ট্রাক্টর দিয়ে হাওর থেকে মাটি বহন করা হয়। অসংখ্য ট্রাক্টরে দিনরাত মাটি বহনের ফলে সড়কের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। ট্রাক্টরের মাটি ঢেকে নেওয়া হয় না। ফলে সেগুলো সড়কে ঝরে পড়ে পিচ্ছিল আলগা মাটির প্রলেপ জমে।
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ- জগন্নাথপুর- ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে উপজেলার নারিকেলতলা গ্রামে কৃষি ইনস্টিটিউটের মাটি ভরাটের কাজ চলছে। মইয়ার হাওর থেকে ট্রাক্টরে করে মাটি আনার কারণে ওই এলাকায় আধাকিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কে ছড়িয়ে রয়েছে কাদামাটি। রোদে ধুলা আর বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হয়ে ওঠা এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
ইছগাঁও-নারিকেলতলা ইজিবাইক সমিতির সভাপতি জিলাল উদ্দিন জানান, এই মৌসুমে গাড়ি চালাতে তাদের ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হয়। রোদে ধুলায় গাড়ির সামনে কিছুই দেখা যায় না। অন্যদিকে বৃষ্টিতে কাদায় পিচ্ছিল সড়কে বাড়ে দুর্ঘটনা।
উপজেলা নাগরিক ফোরামের নেতা নুরুল হক জানান, এসব ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহনের ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। দায়িত্বশীলদের এসব বোঝা উচিত। ভারী ট্রাক্টরের চাপে রাস্তাও নষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াদ বিন ইব্রাহিম ভূঞা জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















