ড্রেজার থেকে নিষ্কাশিত পানির তোড়ে নিয়ামতপুর-তাহিরপুর সড়কের ফতেহপুর সেতুর সংযোগ সড়কে ধস দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে মাটি তোলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথের দায়িত্বশীলরা বলছেন, ধসে যাওয়া অংশ মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে, এভাবে আর মাটি ফেলতে দেওয়া হবে না।
প্রকল্পের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নিয়ামতপুর-ফতেহপুর-তাহিরপুর সড়কের ফতেহপুর অংশের সড়কে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। ড্রেজার দিয়ে বাল্কহেডে করে মাটি এনে ফতেহপুর সেতুর পাশে রাখার সময় পাইপ থেকে বেরিয়ে আসা পানির কারণে সেতুর সংযোগ সড়কের নিচের অংশে ধস শুরু হয়েছে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির অ্যাপ্রোচে ধসের কারণে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন সেতু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা এই সেতুর আশপাশে আরও সতর্কভাবে মাটি তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
ফতেহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুর রহমান জানান, নিয়ামতপুর- তাহিরপুর সড়কের নিয়ামতপুর- আনোয়ারপুর অংশে মাটির কাজ চলছে। কয়েকদিন ধরে ড্রেজারের নিষ্কাশিত পানিতে ফতেহপুরের বড় সেতুটির পূর্বাংশের মূল পিলারের পাশের মাটি ধসে পড়ছে। এলাকাবাসী এই ধস দেখে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। তারা মনে করছেন, সেতু না থাকলে সড়ক দিয়ে কী হবে।
এলাকার কেউ কেউ দাবি করছেন, আবুয়া নদীর কোনো কোনো অংশে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার চালানোয় এটি হতে পারে। মাটি তোলার কাজ আরও পরিকল্পিতভাবে করা এবং সেতুর সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফতেহপুরের পাশে রাজনগর গ্রামের লৎফুর রহমান জানান, ড্রেজার দিয়ে গ্রামের পাশ থেকে মাটি তোলায় গ্রাম হুমকিতে আছে। এখন তাদের স্বপ্নের সেতুটিও ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকার তরুণ রনি হক জানান, সেতুর সুরক্ষা নিশ্চিত করে সড়কের কাজ করতে হবে। সড়ক না থাকলে সেতু কাজে লাগবে না। একইভাবে সেতু না থাকলে সড়ক কোনো কাজে আসবে না।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মফিজুর রহমান থানার ওসি অন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্প্রতি সরেজমিন ফতেহপুর সেতু পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মফিজুর রহমান জানান, ওখানে সড়কের বড় একটি কাজ চলছে। সেতুর পাশের নদী থেকে কেউ মাটি তোলেনি। অনেক দূর থেকে সরকারি উন্নয়ন কাজের জন্য মাটি আনা হয়েছে। সড়কে মাটি তোলার সময় একটি অংশ ধসে গেছে। এই অংশটি মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং জানান, মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং সালেহ আহমদ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ওখানে সড়কের কাজ করছে। সড়কে মাটি ভরাটের সময় ড্রেজারের পানিতে ফতেহপুর সেতুর অ্যাপ্রোচের নিচের কিছু মাটি নদীতে ধসে গেছে। সড়কের সে অংশ আগের অবস্থায় নেওয়ার জন্য সোমবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।




















