পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন মাটিয়ান হাওর ফসল রক্ষা বাঁধের ৬২ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব তোফাজ্জল। তিন বছর ধরে ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি। ঢাকাতে বসেই হাওরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এই তোফাজ্জল।
জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাহিরপুর শাখার আওতায় নির্বাচিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) তালিকায় ৬২ নম্বর প্রকল্পে সদস্য সচিবের নাম রয়েছে তোফাজ্জলের। ওই প্রকল্পের সভাপতি হচ্ছেন নুরুল হুদা। সভাপতি ও সদস্য সচিবের বাড়ি শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। ৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় ওই প্রকল্প কাজের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। এ কাজের টাকা ওঠানোর জন্য সোনালী ব্যাংক তাহিরপুর শাখায় হিসাব খোলা হয়েছে প্রকল্পের সভাপতি নুরুল হুদা ও তোফাজ্জলের নামে। নির্মাণকাজের আগাম ২৫ শতাংশ বিল ৫ লাখ টাকা ছাড় দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সোনালী ব্যাংক থেকে সেই টাকা তোলা হচ্ছে তোফাজ্জলের ছোট ভাই মোফাজ্জলের স্বাক্ষরে। ব্যাংক হিসাব খোলার সময়ও তোফাজ্জলের স্বাক্ষর করেছেন মোফাজ্জল।
শ্রীপুর গ্রামের কৃষক কলিন মিয়া জানান, তোফাজ্জল ও মোফাজ্জল শনির হাওরপাড়ের বাসিন্দা। শনির হাওর কিংবা অন্য কোনো হাওরে তাদের এক ছটাক পরিমাণ জমি নেই। এ অবস্থায় ঢাকাতে বসবাস করেও অন্য এলাকায় মাটিয়ান হাওরের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের সদস্য সচিব হন তোফাজ্জল। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরাও।
এ বিষয়ে মাটিয়ান হাওর ফসল রক্ষা বাঁধের ৬২ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব তোফাজ্জল জানান, তিন বছর ধরে ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি। এ প্রকল্পে কে বা কারা তাঁর নাম যুক্ত করেছে, সেটি জানা নেই।
তোফাজ্জলের ছোট ভাই মোফাজ্জল জানান, বাঁধের কাজটি গ্রামের গোলাম সরোয়ার ডালিম মেম্বার করাচ্ছেন। তিনি শুধু ভাই তোফাজ্জলের স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর কাজ করেন।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ জানান, মাটিয়ান হাওরের একটি প্রকল্পের বিষয়ে এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















