সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের আঙ্গারুলি হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অপ্রয়োজনীয় স্থানে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শুধু চলতি অর্থবছরেই পাউবোর ১৩ লাখ টাকা গচ্চা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের জেলার সব হাওর বন্যায় ডুবে যাওয়ার পর থেকে স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণে প্রকল্পের মাধ্যমে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কখনও আঙ্গারুলি হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনও পড়েনি কখনও। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড আঙ্গারুলি হাওরে নতুন বাঁধ নির্মাণে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
আঙ্গারুলি হাওরপাড়ের বাসিন্দা বালিজুরি গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌস আলম বলেন, বালিজুরি গ্রামের সামনে যে স্থানে পাউবো বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে, তা সম্পূর্ণ সরকারের টাকা অপচয় ছাড়া কিছুই না। তাঁর ভাষ্য, যেখানে বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সে স্থানটি এতটাই উঁচু যে, আষাঢ় মাসেও পানির নিচে তলিয়ে যায় না।
এ বিষয়ে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটির সভাপতি বালিজুরি গ্রামের খলিল মিয়া সমকালকে জানান, প্রকল্পটি ফসল রক্ষা বাঁধের জন্য অপ্রয়োজনীয়। তবে গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তাটি মানুষের উপকারে আসবে।
বালিজুরি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বলেন, বালিজুরি গ্রামের পাশে পাউবোর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। সেখানে মাটি ফেলার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তাঁর ধারণা, পাউবোর কর্মকর্তারা অসৎ উদ্দেশ্যে এ প্রকল্পটি অনুমোদন করেছেন।
পাউবোর তাহিরপুর উপজেলা শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেনের ভাষ্য, স্থানীয় ইউপি সদস্যের সুপারিশে এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আঙ্গারুলি হাওরে অপ্রয়োজনীয় স্থানে বাঁধ নির্মাণ হওয়ার কথা নয়। কী কারণে এ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।




















