কৃষকের কষ্ট ঘুচাল লাখ টাকার টমেটো

  • প্রকাশের সময় : ২২/০১/২০২৪ ১২:১৬:০৩ PM

ছবি- সংগৃহীত

Share
71

নানা সংকট আর বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা মাথায় নিয়েই চলতি মৌসুমে টমেটো চাষ শুরু করেছিলেন তাহিরপুর উপজেলার টমেটো চাষিরা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লাল টুকটুকে টমেটোই রাঙালো প্রান্তিক কৃষকের হাসি।


চলতি মৌসুমে টমেটো চাষে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তাহিরপুরের কৃষকরা। এবার উপজেলার রহমতপুর, লামাশ্রম, সোনাপুর, করিমপুর, বিন্নাকুলি, মন্তাজপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় টমেটো চাষ হয়েছে। ভালো ফলন আর প্রত্যাশিত দামে ফসল বিক্রি করতে পারায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রহমতপুর, লামাশ্রম, সোনাপুর, করিমপুর, বিন্নাকুলি, মন্তাজপুর গ্রামের প্রায় ১০০ একর জমিতে এবার টমেটোর চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং যথাসময়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারায় উৎপাদন হয়েছে আশাতীত। উপজেলার কোনো কৃষককেই এবার ঠকায়নি টমেটো। ভালো ফলন আর বাজারের কারণে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন তারা।

এ বছর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে টমেটো প্রদর্শনীর জন্য কয়েকজন কৃষককে বিনামূল্যে টমেটোর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে, যা অন্যদের আগামীতে আরও ভালো মানের টমেটো 

চাষে আগ্রহী করবে বলে মনে করেন স্থানীয় 

কৃষি কর্মকর্তারা।


স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমিতে এবার তাদের টমেটো চাষ করতে খরচ হয় গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সেখান থেকে যে পরিমাণ টমেটো উৎপাদন হয় তা ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়।

রহমতপুর গ্রামের কৃষক ইন্তু মিয়া জানান, 

তিনি এ বছর ৫ কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এতে তাঁর মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত যে দামে টমেটো বিক্রি করেছেন, তাতে মৌসুম শেষে ৪ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। শুরুর চেয়ে শেষ দিকে কিছুটা কম দামে বিক্রি করলেও ভালো লাভ হবে তাঁর। 

মন্তাজপুর গ্রামের কৃষক সজল মিয়া জানান, এ বছর ১৫ কিয়ার জমিতে টমেটো চাষাবাদ করেছেন। তাঁর টমেটো সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা থেকে ট্রাক নিয়ে কিনতে আসছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। শুরুতে তিনি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন টমেটো। টমেটোর চাহিদা ভালো থাকায় এখনও ন্যূনতম ৩০ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি করতে পারছেন তিনি।


উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, এলাকার কৃষকরা টমেটো চাষ করে এবার বেশ লাভবান হয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগব্যাধির সংক্রমণ যেমন ছিল না, তেমনি উপযুক্ত সময়ে টমেটো চাষে কোনো বেগ পেতে হয়নি কৃষকদের। সব মিলিয়ে কৃষকের কষ্ট স্বার্থক হয়েছে। স্থানীয় বাজারেও টমেটোর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সংকট সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান-উদ-দৌলা জানান, সম্প্রতি বাদাঘাট ইউনিয়নের রহমতপুর, লামাশ্রমসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কৃষকদের টমেটো ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। অনেক স্থানেই উপজেলার বাইরে থেকে টমেটো কিনতে আসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা এবার তাহিরপুরের টমেটোর মান ভালো বলে জানিয়েছেন।



সিলেট প্রেস / ২২ জানুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০১-২২ ১২:১৬:০৩