সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের ১৭দিন পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি মহালিয়া হাওর উপ-প্রকল্পের ৫৭ ও ৫৮ নং ফসল রক্ষা বাঁধে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই দুটি বাঁধে এক টুকরো মাটিও ফেলেন নি ঐসব কমিটির সভাপতিগণ৷
শুক্রবার সরেজমিনে মহালিয়া হাওরে গিয়ে ৫৭ ও ৫৮ নং পিআইসির ফসল রক্ষা বাঁধে মাটি ফেলার কোনো যন্ত্রাংশ কিংবা কোনো শ্রমিক পাওয়া যায় নি। এমনকি এসব বাঁধের সভাপতি বা সদস্য সচিবকেও দেখা যায় নি। মহালিয়া হাওর উপ-প্রকল্পের ৫৭ নং পিআইসি’র সভাপতি হিসেবে রতন মালা দাস ও ৫৮ নং পিআইসি’র সভাপতি মো. হাবুল মিয়া দায়িত্বে রয়েছেন।
মহালিয়া হাওর পারের কৃষক ফজলুল হক বলেন আমাদের একমাত্র বোরো ফসলের উপর নির্ভর করে আমাদের জীবন চলে। প্রতি বছর এই সময়ের আগে আমাদের বেরি বাধের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়ে যায় কিন্তু এই বৎসর এখন পর্যন্ত বাঁধে এক কোদাল মাঠিও পরেনি। যার কারণে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন, আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই অনতিবিলম্বে বাঁধের কাজ শুরু করেন নতুবা কৃষকরা আন্দোলন শুরু করবে তখন পালাবার পথ থাকবেনা।
উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর বলেন, এই বৎসর প্রশাসনের লোকজন পি আইসি কমিটি গঠন করেছে, তারা মনিটরিং কমিটির কোন সদস্যকে অবগত করেনি কিংবা পরামর্শ নেয়নি। আগাম বন্যায় যদি বাঁধ ভেঙে আমাদের একমাত্র বোরো ফসল কোন ধরনের ক্ষতি হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে বহন করতে হবে।
মহালিয়া হাওর উপ-প্রকল্পের ৫৭ নং পিআইসি’র সভাপতি রতন মালা দাস বলেন, গাড়ি আনতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে, এজন্য বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারিনি।
বাঁধে মাটি না ফেলার বিষয়টি স্বীকার করে ৫৮ নং পিআইসি’র সভাপতি মো. হাবুল মিয়া বলেন, গাঁওছিয়া থেকে গাড়ি আসলে কাজ শুরু করা হবে। টাকা দেরিতে পাওয়ায় এমনটা হয়েছে।
এবিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো পিআইসি’র সভাপতিগণের সাথে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের প্রলয়ংকরী আগাম বন্যায় সুনামগঞ্জের বোরো ধানের সম্পূর্ণ ফলন নষ্ট হওয়ার পর অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশোধন হয় ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) নীতিমালা। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু করে আবশ্যিক ভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে বাঁধের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে হবে। কাজের আর্থিক মূল্যের হিসাবে প্রতি ২৫ লাখ টাকার একটি করে স্কিম প্রস্তুত করে তার জন্য বাঁধের পার্শ্ববর্তী কৃষি জমির মালিকদের নিয়ে একটি করে পিআইসি গঠন করতে হবে। ##
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















