সুনামগঞ্জ-১ আসনে দুই স্বতন্ত্রের চাপে নৌকা

  • প্রকাশের সময় : ০১/০১/২০২৪ ০৭:১৯:০৬ AM

রনজিত চন্দ্র সরকার, মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিম আহমদ

Share
68

ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ শক্তিশালী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর চাপে পড়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী।


আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন টানা তিন বারের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। প্রথম দিকে রতনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের সম্ভাবনা দেখা দেয় নৌকার প্রার্থী রনজিত চন্দ্র সরকারের। শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেটলি প্রতীক নিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন রতন নির্বাচনে থাকায় পালটে যায় চিত্র। এদিকে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিম আহমদও ভোটের মাঠে চাপে রেখেছেন নৌকা প্রার্থীকে।


দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এ আসনের বর্তমান এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ বলয়ের বিরোধিতা চলছিল, যার জের ধরে এ আসনে আসন্ন নির্বাচনে রতনের পরিবর্তে অন্য প্রার্থীর মনোয়নে তোড়জোড় চালাচ্ছিলেন তারা। মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে পরিবর্তন করে এ আসনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রনজিত চন্দ্র সরকারকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয় মুরাদ-বিলকিসের নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ। তারা একজোটে নেমেছেন রনজিতের প্রচারে।


এদিকে মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের পক্ষে মাঠে রয়েছেন ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। তাছাড়া টানা তিনবারের এমপি রতনের পক্ষে রয়েছে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের সমর্থন। অন্যদিকে বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে রতনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর পক্ষে জোরালোভাবে মাঠে আছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি শামীম আক্তার খানম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, সদস্য শাহরিয়ার বিপ্লবসহ তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর উপজেলার একাধিক শক্তিশালী দলীয় নেতা। সব মিলিয়ে বেশ জমে উঠেছে এ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ।

রনজিতের পক্ষেও জোরালো অবস্থানে রয়েছেন চার উপজেলার দলীয় প্রথম সারির নেতাকর্মীরা। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি সেলিম আহমদ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও রতন, রনজিত ও সেলিমের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে– এমনটাই বলছেন সাধারণ ভোটাররা।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধর্মপাশায় রতন ও রনজিতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এখানে সেলিমও টেক্কা দিতে পারেন। জামালগঞ্জে রতনের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে রনজিত ও সেলিমও ভোটে ভাগ বসাবেন। তাহিরপুরে রনজিত ও সেলিমের বাড়ি। সেখানে আঞ্চলিক অবস্থানের কারণে এগিয়ে থাকবেন এই দুই প্রার্থী। তবে দু’জনের টানাটানিতে রতনের ভাগ্য খুলতে পারে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জানান, কৌশলগত কারণে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। নির্বাচন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির হাতে এ আসন ছেড়ে দেওয়া হবে না। এ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে দাবি করে আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ মানুষের প্রার্থী হিসেবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়তে লড়বেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রচারের ব্যাপারে সেলিম আহমদ জানিয়েছেন, এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা গ্রাম্য কথায় ‘চোর তাড়াতে ডাকাত নিয়ে আসা’র মতো। ৭ তারিখের নির্বাচনে ভুল করলে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িকভাবে সমাজ ব্যবস্থা বিভাজিত হবে। তাই স্থানীয়দের কাছে ঈগলের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।


নৌকার প্রার্থী রনজিত চন্দ্র সরকার নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ সিন্ডিকেট ভেঙে এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকাকে বিজয়ী করে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে চান তিনি। কোনো নেতা বা অনুসারী জনগণের সঙ্গে অন্যায় করলে ছাড় না দেওয়ার কথাও বলেন এ নেতা।

এ আসনের চারটি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮০ হাজার ৬০৮ জন, যার মধ্যে ধর্মপাশায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৩১, মধ্যনগরে ৭৯ হাজার ৮৯০, তাহিরপুরে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৩ ও জামালগঞ্জে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৩৪ জন।



সিলেট প্রেস / ০১ জানুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০১-০১ ০৭:১৯:০৬