জামালগঞ্জে যান চলাচল বন্ধের উপক্রম, জনগণের চরম দুর্ভোগ

  • প্রকাশের সময় : ৩১/০৮/২০২৩ ০৯:৩২:৪৮ AM

Share
96

হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার অবহেলিত উপজেলা জামালগঞ্জ। দীর্ঘদিন যাবত জেলার সাথে উপজেলার সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ঘটেনি। জামালগঞ্জ থেকে জেলা সদরের মধ্যেবর্তী দিরাই সড়কের কাঠইর পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশায় জনগণের ভোগান্তির অন্ত নেই। জামালগঞ্জ উপজেলার অংশ রুপাবালির মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা উজ্জ্বলপুর- জাল্লাবাজ মধ্যেবর্তী ও জাল্লাবাজ-বাহাদুরপুর ব্রীজের উভয় পাশের  অংশ। এছাড়াও নতুনপাড়া,শাহপুর, গোলামীপুর, ছোট ঘাগটিয়া, বড় ঘাগটিয়া, উজ্জ্বলপুর, জাল্লাবাজ,বাহাদুরপুর, নোয়াগাঁও বাজার ও রুপাবালি অংশের মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড়  খানাখন্দ। বাইশ সালের জুনের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এই সমস্ত সড়ক নির্মাণ ও মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়ায় বন্যার পর থেকে জনগণের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।  ২৩ সালের মে মাসে দূর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভাঙ্গা ও খানাখন্দ গুলোতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে। এর উপরে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডির মাধ্যমে কয়েকটি ভাঙ্গনের জায়গায় ও খানাখন্দে ইট বিছিয়ে দিলেও সম্প্রতি বর্ষার অতি বৃষ্টিতে আবারও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। উজ্জ্বলপুরের ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গাটি কর্তৃপক্ষের মেরামতের অবহেলার কারণে উপজেলা হাসপাতাল থেকে মুমূর্ষু রুগী নিয়ে সিএনজিতে যাতায়াত করলেও এম্বুলেন্স চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পরেছে। উপজেলার উপকন্ঠে তেলিয়া পয়েন্ট থেকে নতুনপাড়ার ত্রিমুখী রাস্তা পর্যন্ত ১০০ মিটার জায়গায় ইটের ঝাঁকুনিতে মুমূর্ষু রুগী সহ বয়স্ক নারী পুরুষ সহ যাত্রীদের নাভিশ্বাস বইছে। এই ১০০ মিটার রাস্তা পুরাতন আরসিসি ভেঙে ২০১৯ /২০ সালে ইট করা হলে যান চলাচল সহ মানুষের চলাফেরায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। 


রাস্তার বেহাল দশা দেখে পথচারী খুব প্রকাশ করে বলেন,  সরকারের উন্নয়নের প্রচার শুনি,কিন্তু  জামালগঞ্জের রাস্তার উন্নয়ন হয় না। আমাদের  দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে গাড়ীতে উঠলে নিজেও রুগী হয়ে যাই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনজিও কর্মী বলেন, হাওর পাড়ের জনগণের মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। কিন্তু জামালগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার এ দুরবস্থা কেন।  

সিএনজি চালক বলেন, এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো খুবই কঠিন। ঝুঁকি নিয়ে আমরা গাড়ি চালাই। কয়েক দিন পর পর গাড়িতে কাজ করতে হয়।প্রায় সময়ই ছোট বড় দূর্ঘটনায় পরতে হয়।  রাস্তার কাজ না করলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটবে। 

উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালিক বলেন,  ২০২২ সালের আকস্মিক বন্যায় রাস্তাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যা পরবর্তীতে রাস্তার সংস্কারের জন্য প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। ইমার্জেন্সি বাজেট দিয়ে রাস্তার ভাঙ্গা অংশে মেরামত করা হয়েছে। এ মূহুর্তে আমাদের হাতে কোন বাজেট নাই। প্রকল্প পাশ হয়ে আসলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদ রানা বলেন, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তা উপজেলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হবে। 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন,  বিগত বছরের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তার ক্ষতি হয়েছে বেশি। ইতিমধ্যে আমরা নিজস্ব ফান্ড থেকে কিছুটা সংস্কার করেছি। পরিপূর্ণ সংস্কারের জন্য প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাশ হয়ে আসলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধা ভোগ করবে হাওরবাসী। 


সিলেট প্রেস / ৩১ আগস্ট ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামালগঞ্জ

আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামালগঞ্জ

প্রকাশ: ২০২৩-০৮-৩১ ০৯:৩২:৪৮