সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের সেলিমগঞ্জ বাজার সংলগ্ন আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি এখন এলাকার মানুষের ক্ষোভের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণ কাজে নিন্মমানের ইট, বালু এবং সিমেন্ট কম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই ক্ষোভের প্রধান কারণ। এতে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। যা একাধিক ব্যাক্তির সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এই ক্ষোভের চিত্র। গতকাল সরেজমিনে এই প্রতিবেদক গেলে সেখানে স্থানীয় এলাকার একাধিক গন্যমান্যব্যক্তি অভিযোগ করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানাগেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৩ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দেয় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়। মেসার্স ঝিম এন্টারপ্রাইজ নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উক্ত কাজ পায়। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু, খোয়া দিয়ে কাজ করার কারনে নানা আলোচনা সমালোচনার চলছে। অভিযোগ উঠেছে নিন্মমানের ইট, খোয়া দিয়ে ছাদ ঢালাই সহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ করছেন এই প্রতিষ্ঠানটি।
নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দীন সিলেটপ্রেস কে বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে আমাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছে। কিন্তু কাজের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট বালু ব্যবহার করছে। নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়। আমরা তো এইখানে থাকবো। ভেঙে পড়লে তো আমাদের উপরই পড়বে। ঠিকাদারতো আর থাকবেনা।
অপরদিকে আরেক বাসিন্দা আসাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, নিম্নমানের ইট দিয়ে ওয়ালের গাথুনি দিচ্ছে। মিস্ত্রিকে বলার পর সে স্বীকার করেছে এগুলো নিম্নমানের ইট। তাছাড়া দেওয়ালে ধাক্কা দিলেই কম্পন শুরু হয়।
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দায়িত্বে থাকা মো. মামুন বলেন, ভালো ইট না পাওয়ায় নিম্নমানের ইট আনা হয়েছে। তবে এখন থেকে এগুলো আর কাজে লাগানো হবে না।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এরশাদ হোসেন সিলেটপ্রেস কে বলেন, জামালগঞ্জের আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। আমি দেখে এসেছি এতদিন ভালো মানের নির্মাণ সামগ্রী লাগানো হয়েছে। এখন আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম বর্তমানে সেখানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিনে যাবো। যদি দেখি নিম্নমানের কোনো নির্মাণসামগ্রী লাগানো হয়েছে তাহলে সেগুলো অপসারণ করা হবে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামালগঞ্জ




















