সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে খুশী করার অভিযোগ পাউবো প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

  • প্রকাশের সময় : ১৭/০৪/২০২৩ ০১:৫২:১৯ AM

Share
49

গত দু'দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠেছে সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারকে নিয়ে। তিনি বাধঁ নির্মাণে সফলতা দেখাতে আর বাঁধ নির্মাণের অনিয়ম দূর্নীতি ডাকতে জেলায় কর্মরত ২৫-৩০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিনিধিদের রাতের আধারে নগত ১০ হাজার টাকা করে বিতরণ করেছেন। তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এখন ভাইরাল হয়েছেন টপ অব দ্যা টাউনে পরিণত সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন। যে টাকা দিয়ে বাহাবাহ কিনতে চেয়েছিলেন সেই টাকাই এখন নিজের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আর নগদ টাকা নেয়ার জন্য খুদ এই কর্মকর্তা নিজেই সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ডেকেছে নিজ কার্যালয়ে। তবে অনেক সাংবাদিককেই তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। আর অনেক সাংবাদিকদের সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের অফিস আসা যাওয়া করতে ও আশপাশে দেখেছেন। আর এক কর্মকর্তা ঐসব সাংবাদিকদের দেখেছেন বলেও জানান। 

গত ১৫ এপ্রিল ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার। এসময় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন সাথে ছিলেন। পরিদর্শন শেষে বাঁধ নির্মাণ সমাপ্তি ঘোষণা করেন তিনি। এসময় সাংবাদিকগনও উপস্থিত ছিলেন। 

এরপর সন্ধ্যায় প্রায় ৩০-৩৫ জন সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে জন প্রতি ১০ হাজার টাকা দেয়ার কথা। এরপর পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় বিষয়টি। নানান জনে নানান বিদূপ মন্তব্যও করছেন।

তবে শুরু থেকেই যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের অনিয়ম ও দূর্নীতি কথা বলে আসছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন সহ সাংবাদিকগন তাই সঠিক। আর ফসল রক্ষা বাঁধে এবারও অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়েছে তা ডাকতেই কি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার টাকা বিতরণ করেছেন। তাহলে বাঁধের কি অবস্থা হবে আগাম পাহাড়ী ঢল আসলে এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহল সহ সবার মুখে মুখে। 

তবে নিজের উপর টাকা বিতরণের অভিযোগ৷ অস্বীকার করেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার। 

এদিকে কালেরকণ্ঠ ও একাত্তরের টেলিভিশনের দায়িত্বে রয়েছেন সামস শামীম। বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরীসহ অনেকেই জানান, তাদের পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী টাকা নেয়ার অফার দিলে সাথে সাথে তা প্রত্যাখান করেন।

এ ব্যাপারে টিআইবির সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহ-সভাপতি এডভোকেট খলিল রহমান বলেন, সংবাদকর্মীদের টাকা দেয়ার চেষ্টা করা হলে এটিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য দূর্বলতা প্রকাশ পায়, এটি অন্যায়। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের খতিয়ে দেখা উচিত।

সাংবাদিক ও পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)র সুনামগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক জসিম উদ্দিন জানান, এই প্রকৌশলী কত টাকা বাঁধ থেকে নিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা উচিত।

সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সাংবাদিকদের টাকা দেয়ার বিষয় মিথ্যা বানোয়াট দাবী করেছে। তিনি কাউকে ডাকেন নি ও টাকাও দেন নি বলে জানান। সাংবাদিকগন তাদের কাজে ও পানি বৃদ্ধি খরব জানতে এসেছিলেন।


সিলেট প্রেস / ১৭ এপ্রিল ২০২৩/আ


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-০৪-১৭ ০১:৫২:১৯