সিলেটে জোড়া খু নে র আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • প্রকাশের সময় : ২৪/০৭/২০২৬ ১২:৩১:০০ AM

ছবি: হত্যা মামলার আসামী ময়নুল ও রাজন

Share
8

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে প্রকাশ্যে দুই পরিবহন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলার প্রধান আসামিরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় এবং তাদের বিরুদ্ধে অব্যাহতির সুপারিশ করায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সঙ্গে সখ্যতার কারণেই প্রভাবশালী শ্রমিক নেতারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।


‎গত ৬ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহত বাস হেলপার রিপন আহমদের বাবা গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামের ছাবলু মিয়া দায়ের করা মামলায় সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলামকে প্রধান আসামি এবং সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক (বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) আলী আকবর রাজনকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। মামলায় মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

‎অপরদিকে, নিহত বাসচালক দেলওয়ার হোসেনের বাবা বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের বাঘবাড়ি গ্রামের আজির উদ্দিন আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

‎ঘটনার পর পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করলেও মামলার প্রধান আসামি ময়নুল ইসলাম ও আলী আকবর রাজন এখনও অধরা। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এমনকি হত্যা মামলার আসামি থাকা অবস্থায়ও তাদের পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে দেখা যায়।

‎গত ৫ জুলাই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) তৎকালীন কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যানজট নিরসনবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় ময়নুল ইসলাম ও আলী আকবর রাজনের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। জামিন ছাড়া হত্যা মামলার আসামিদের এমন সরকারি সভায় অংশগ্রহণ কীভাবে সম্ভব হলো—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

‎শ্রমিক নেতাদের একাংশের দাবি, পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় অভিযুক্তরা শুধু গ্রেফতারই এড়াচ্ছেন না, মামলা থেকেও অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

‎এরই মধ্যে রিপন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ময়নুল ইসলাম, দ্বিতীয় আসামি আলী আকবর রাজন, ষষ্ঠ আসামি আব্দুস শহিদ এবং সপ্তম আসামি সামসুল হক মানিককে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ।

‎গত ১০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারায় অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন (নং-১) আদালতে জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লিখিত চারজনকে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটি অগ্রবর্তী করেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান।

‎তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। তাদের মোবাইলের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আবেদন করেছিলেন। কমিশনারের নির্দেশে যাচাই-বাছাই শেষে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

‎তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তারা হামলার নির্দেশদাতা ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে চূড়ান্ত চার্জশিটে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

‎দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. আশরাফ উজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অব্যাহতির বিধান রয়েছে। অভিযুক্তরা আবেদন করায় পুলিশ কমিশনার তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ডিসি কোর্টের নেতৃত্বাধীন যাচাই-বাছাই কমিটিও বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে।

‎এদিকে, দেলওয়ার হোসেন হত্যা মামলার বাদী আজির উদ্দিন আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন, মামলায় ভুল ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছিল। অপরদিকে নিহতের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার প্রকৃত আসামিদের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি দরখাস্ত মামলা (নং-১৪৫/২৬) দায়ের করেছেন।

‎উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, মালিকপক্ষের বিরোধে শ্রমিক সংগঠনের কয়েকজন নেতা একটি পক্ষ নিয়ে শ্রমিকদের সংঘর্ষে উসকে দেন। পরে মিতালী ও ঢাকাইয়া পরিবহনের শ্রমিকরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় বাস ও টিকিট কাউন্টারে ভাঙচুর চালানো হয় এবং অন্তত সাতজন শ্রমিককে বেধড়ক মারধর করা হয়।

‎গুরুতর আহত বাস হেলপার রিপন আহমদ ও বাসচালক দেলওয়ার হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সূত্র: শ্যামল সিলেট 


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২৪ ০০:৩১:০০