সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. রাকিবুল আলমের বিরুদ্ধে বালু মহাল ইজারায় নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলা এবং অনিয়মের মাধ্যমে ইজারা পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বালু মহাল ইজারা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি এই সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলায় প্রায় ৪০টি ইজারাযোগ্য বালু মহাল থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩টি মহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাকি মহালগুলো নানা অজুহাতে আটকে রাখা হয়েছে, যার ফলে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই বেশ কয়েকটি মহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলোও নিজেদের লোকদের পাইয়ে দিতে তৎপর রয়েছে চক্রটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো মহালের দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের আগেই আরডিসির সিন্ডিকেটের সদস্যরা সম্ভাব্য দরদাতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পক্ষগুলোই দরপত্রে অংশ নেয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে অন্যান্য নিরপেক্ষ প্রতিযোগীদের দরপত্র বাতিল করে পূর্বনির্ধারিত সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকেই ইজারা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ইজারার পর আরডিসির প্রত্যক্ষ মদদে পূর্বনির্ধারিত সীমানা বদলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ইজারাকৃত একাধিক বালু মহাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকেও প্রতিনিয়ত অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইজারার শর্ত কঠোরভাবে ভঙ্গ করে সনাতন পদ্ধতির বিপরীতে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে চলছে বালু উত্তোলন। এতে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক ভাঙন ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মাঝে মধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় বালু খেকোদের দাপট থামছে না।
এসব অভিযোগ ও টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ইজারা কমিটির সদস্য সচিব ও আরডিসি মো. রাকিবুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব তথ্য প্রকাশ করলে ইজারাদারদের সমস্যা হতে পারে, যার কারণে এই তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়।



















