সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, পদ থেকে অপসারণ ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সাথে একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত এই চেয়ারম্যানকে দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং স্থানীয় সরকার সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) কুহিনুর।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন আত্মগোপনে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় অনুপস্থিত এবং ইউপি কার্যালয়েও আসছেন না। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো ইউনিয়নের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা কার্যক্রম। এতে সাধারণ জনগণ জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও জরুরি প্রত্যয়নপত্র পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তারা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে নথিপত্র ইস্যু করছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আত্মগোপনে থেকেও আড়াল থেকে তমিজ উদ্দিন পরিষদের নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করছেন। ভিজিএফের চাল, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবির পণ্য এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতার মতো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাগুলো তিনি নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি করে বণ্টন করছেন। এ ছাড়া গত অর্থবছরে আদায়কৃত হোল্ডিং ট্যাক্সের প্রায় ২০ লাখ টাকা ইউপি সচিবকে সাথে নিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, ইউপি চেয়ারম্যান তমিজের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলা, বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর, জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্র দখল, অবৈধভাবে শত শত একর সরকারি জমি দখল এবং আলোচিত লোভা পাথর কোয়ারি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আবেদনকারী ইউপি সদস্য কুহিনুর জানান, চেয়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়নের সার্বিক সেবা বন্ধের মুখে এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন থেকে রহস্যজনকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় তিনি সশরীরে ঢাকা গিয়ে আইজিপি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে এই লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।



















