সিলেট সীমান্তে একের পর এক অস্ত্র–বিস্ফোরক উদ্ধার, অধরাই মূল চোরাচালান চক্র

  • প্রকাশের সময় : ১৩/০৭/২০২৬ ০৩:১৭:৪৫ PM

Share
7

সিলেট বিভাগের সীমান্তবর্তী পাহাড়, টিলা ও হাওড়াঞ্চলে একের পর এক অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ডেটোনেটর ও আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হলেও এসব চালানের সঙ্গে জড়িত মূল চোরাচালান চক্রের অধিকাংশ সদস্য এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটের কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, মৌলভীবাজারের বড়লেখা এবং সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দেশে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের পাথরখনিতে ব্যবহৃত পাওয়ার জেল-৯০, নিওজেল-৯০ এবং বিভিন্ন ধরনের ডেটোনেটর চোরাইপথে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ১৪৬টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ১ কেজি ১২৫ গ্রাম বিস্ফোরক এবং ১৮৩টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিস্ফোরকের অন্তত ১৩টি চালান জব্দ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত মাসে জকিগঞ্জ উপজেলার বারোঠাকুরী ইউনিয়নের সোনাসার এলাকার একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ১১টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ১১টি ডেটোনেটর এবং একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়। ওই স্থানটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।

এর দুই দিন আগে মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তসংলগ্ন তারাদরম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিন কেজি বিস্ফোরক, ২৪টি ডেটোনেটর, ধাতব তার এবং দুটি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়। একই এলাকা থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারিও ২৪টি বিস্ফোরক, ২৩টি ডেটোনেটর ও তিনটি পাইপগান উদ্ধার হয়েছিল।
এ ছাড়া গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও দক্ষিণ সুরমাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে বছরের শুরু থেকে একাধিক দফায় বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর উদ্ধার হয়েছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, চারাগাঁও ও ছাতক সীমান্ত থেকেও একই ধরনের অস্ত্র ও বিস্ফোরক জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্ত্র ও বিস্ফোরক পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা ও পরিবহনকারী চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৩৫ কেজি ৭৩০ গ্রাম ভারতীয় বিস্ফোরক, ২২৪টি ডেটোনেটর, ৪৮টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ছয়টি ম্যাগাজিন, একটি সাউন্ড গ্রেনেড, পাঁচটি পেট্রোল বোমা, ১১টি ককটেল এবং ১৫৫টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জড়িত চক্রকে শনাক্ত করতে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে জকিগঞ্জের ১৯ বিজিবি ও বিয়ানীবাজারের ৫২ বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযানের ফলেই একের পর এক অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চালান আটক করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৩ ১৫:১৭:৪৫