সিলেট নগরীর বড়বাজার বন্ধন ‘বি’ এলাকার বাসিন্দা ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মো. হায়দার আলীর চিকিৎসায় যৌথভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে ‘জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন ইউকে’ এবং ‘লিগাল রাইটস অর্গানাইজেশন’। দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি গলায় ক্যান্সারে আক্রান্ত এই অসহায় রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হায়দার আলী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর পরিবার চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। তাঁর স্ত্রী রিনা বেগম স্বামীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থানে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করা হলে, ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে পাঁচ মাস পর ভর্তির পরামর্শ দেন।
এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে রিনা বেগম ‘লিগাল রাইটস অর্গানাইজেশন’-এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ সাইদুল ইসলাম দুলালের সাথে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন’-এর ফাউন্ডার চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মিজানুর রহমান মিজানকে বিষয়টি অবহিত করেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিজানুর রহমান মিজান অসহায় হায়দার আলীর চিকিৎসার জন্য নগদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
একই সাথে, সৈয়দ সাইদুল ইসলাম দুলালের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ওয়ান-টু-ওয়ান যোগাযোগের মাধ্যমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে দ্রুত রোগী ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। হায়দার আলী বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনের ৭ম তলায়, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ সাইদুল ইসলাম দুলাল বলেন, আমরা নিঃস্বার্থভাবে অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সমাজে এমন অসংখ্য অসহায় মানুষ সঠিক সহযোগিতা ও চিকিৎসার অভাবে নীরবে ঝরে পড়ছেন। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা ও আইনি সেবা পাওয়া সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত সাধারণ মানুষের জন্য নির্বিঘ্নে ও দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করা।



















