জাহাঙ্গীরনগরে বর্ষাতেও থামেনি পাহাড় কাটার মহোৎসব, সিন্ডিকেটের নেপথ্যে হাফিজ মেম্বার

  • প্রকাশের সময় : ২২/০৬/২০২৬ ০১:১৯:০৯ PM

Share
7

চলতি বর্ষা মৌসুমের ভারী বর্ষণকে উপেক্ষা করেই সিলেট সদর উপজেলার ৬নং টুকেরবাজার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীরনগর ও আশপাশের এলাকায় দেদারসে চলছে পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব।


দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড়ের মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 


বর্ষা মৌসুমেও এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড় ধস, ভূমিক্ষয় ও আশপাশের বসতবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় শত শত বাসিন্দা। এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।


স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত অভিযোগ, এই অবৈধ পাহাড় ও টিলা কাটার নেপথ্য মূলহোতা হিসেবে স্থানীয় হাফিজ মেম্বারের নাম বেশ জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও ইন্ধনেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবেশবিধ্বংসী কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। 


এছাড়া মাঠ পর্যায়ে সরাসরি পাহাড় কাটা, তদারকি ও ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে মাটি পরিবহনের সাথে জড়িত সক্রিয় সহযোগী হিসেবে ড্রাইভার মিনাল, মতিন মিয়া, বিরাজুল, মুহিবুর এবং মাটি কাটার শ্রমিক ইকবাল, রাজু মিয়া ও রুবেল মিয়ার নাম স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রভাবশালী এই চক্রটি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত টিলা কেটে সাবাড় করছে। বর্তমানে সিলেটে ভারী বর্ষণ ও বর্ষা শুরু হওয়ায় পাহাড়গুলোর মাটি নরম হয়ে ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছেন পাহাড়ের পাদদেশে ও আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে এই পাহাড় কাটা চিরতরে বন্ধে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


পাহাড় কাটার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি এখন ঝুঁকির মুখে। বর্ষার বৃষ্টিতে যেকোনো সময় পাহাড় ধসে পড়তে পারে। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে জীবন ও প্রকৃতির নিরাপত্তা চাই।


— জাহাঙ্গীরনগর এলাকার একজন আতঙ্কিত বাসিন্দা।


পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কাটা শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা নয়, এটি পুরো সিলেট অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়। বর্ষায় পাহাড় ধসের মতো ভয়াবহ মানবিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।


এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগে হাফিজ মেম্বারসহ যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে এই পাহাড়খেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত নিয়মিত মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-২২ ১৩:১৯:০৯