বিশ্বম্ভরপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়

বছরের শেষ সময়েও বাংলা বই পায়নি শিক্ষার্থীরা: দায় এড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ

  • প্রকাশের সময় : ১৯/১০/২০২৫ ১১:১০:০৭ PM

ছবি: সংগ্রহীত।

Share
86


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রায় দশ মাস শেষ। সামনেই বার্ষিক পরীক্ষা। অথচ সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত মূল পাঠ্যবই ‘বাংলা’ এখনও হাতে পায়নি। সপ্তম শ্রেণিতে মোট ৫৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁরা বই না পাওয়ার পরও অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বার্ষিক পরীক্ষা দোরগোড়ায় চলে আসায় বই না পেয়ে চরম হতাশ শিক্ষার্থীরা। আর বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে।

রবিবার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, আমরা কেউই বাংলা বই এখনো পাইনি। বছরের শুরু থেকেই ম্যাডাম এবং স্যারকে বারবার বলার পরেও কোনো কাজ হয়নি। বই ছাড়াই আমরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চন্দ্র শেখর সরকার জানান, সপ্তম শ্রেণীর শুধু বাংলা বইটিই বাকি ছিল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে বইটি দেওয়ার কথা থাকলেও তারা 'দেই-দিচ্ছি' বলে কালক্ষেপণ করেছে। বাকি সকল শ্রেণীর সকল বই আমরা বিতরণ করেছি।

তবে প্রধান শিক্ষকের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, এই বিষয়টি আমি এইমাত্র শুনলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো অভিযোগ বা চাহিদার কথা জানায়নি। তাদের কথাগুলো দায়সারা এবং অপরিপক্ক। জানুয়ারিতেই সারা উপজেলায় বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্কুলেই বইয়ের গুদাম। সবাই বই পেলে তারা কেন পাবে না? প্রয়োজন হলে আমরা বই ফটোকপি করে ছাপিয়ে দিতাম।

এই দায়িত্বহীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলার নতুনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, মাস খানেক পরেই বার্ষিক পরীক্ষা, অথচ শিক্ষার্থীরা এখনো বই পায়নি। এটি সম্পূর্ণ অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও জ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। এর দায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা শিক্ষা অফিস কেউই এড়াতে পারে না।


এদিকে, বিদ্যালয়ে এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহের সময়ই দেখা যায় বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা স্কুলের পুরাতন ভবনের একটি কক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ ফ্রেমবন্দী ছবি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক এগুলো নিজস্ব গতিতে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। তথ্য পাওয়ার পর ইউএনও স্যারের নির্দেশে পুলিশসহ আমরা এগুলো অপসারণের দায়িত্ব পালন করি।

তবে প্রধান শিক্ষক চন্দ্র শেখর সরকার জানান, সারা দেশের মতোই আমরাও 'বঙ্গবন্ধু কর্নার' থেকে ছবিগুলো নামিয়ে একটি গোডাউনে রেখেছিলাম। সেই গোডাউনটি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ব্যবহার করে এবং এর চাবি আমাদের কাছে নেই।

বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, এগুলো আগে 'বঙ্গবন্ধু কর্নার' ছিল। পরে ছবিগুলো খুলে রাখা হয় এক কোনায় রাখা হয়। এখন সেগুলো থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।


সিলেট প্রেস / টিএ


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৫-১০-১৯ ২৩:১০:০৭