আছে বিভিন্ন প্রস্তাবনা

হাওর ও নদী বাঁচাতে সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

  • প্রকাশের সময় : ০২/০৯/২০২৫ ০৮:৫৯:৫৫ PM

ছবি: সংগ্রহীত।

Share
123

টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিকল্পিত পর্যটন, নদীতে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলণ বন্ধ, বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশ বান্ধব ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং হাওরে ইজারা প্রত্তা বাতিল করে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির দাবিতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছে হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন নামে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. ফজলুল করিম টিপু’র কাছে আবেদনপত্র হস্তান্তর করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটনের নামে তার জীববৈচিত্র ও সৌন্দর্য্য বিনষ্ট করা হচ্ছে। কোন ধরনের নিয়মনীতি রক্ষা না করেই অপরিকল্পিত পর্যটন ও বেআইনী মৎস্য ও পাখি শিকারের জন্যই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। জাদুকাটা, ধোপাজান নদী সহ সুনামগঞ্জের সৌন্দর্য্যের প্রধান প্রধান নদী গুলোতে পাড় কেটে ও অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলন করে তার আশেপাশের গ্রাম ও জনপদ বিলীন করে দেওয়া হচ্ছে। এই জেলার দেখার হাওর, শনির হাওর, ছায়ার হাওর, হালির হাওর, টগার হাওরসহ সকল হাওর ধান উৎপাদনে বিশাল ভূমিকা পালন করছে। বোরো ফসল মৌসুম আসলেই হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে নানা অনিয়ম ও বিলম্বের কারণে এই ফসল উৎপাদন চরম হুমকির সম্মুখিন হয়। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে সারা বাংলাদেশের মধ্যে সুনামগঞ্জ অন্যতম। এক সময় এখানে প্রায় তিনশত প্রজাতির ছোট বড় মাছ পাওয়া যেত। অথচ আজ অপরিকল্পিতভাবে খোনা জাল, কারেন্টের জাল দিয়ে মাছ ধরে মাছের বিভিন্ন প্রজাতিকে বিপন্ন করা হচ্ছে এবং অবশিষ্ট যে প্রজাতি গুলো রয়েছে তাও বিলুপ্তির পথে।

আবেদনপত্রে যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়:
টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সুনামগঞ্জের প্রত্যেকটি দর্শনীয় স্থানগুলোকে একটি যথাযথ পরিকল্পনা প্রনয়ন করে সৌন্দর্য্য রক্ষনাবেক্ষণ করা এবং পর্যটকদের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা। যাতে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সকল হাওরে ধান, মাছ ও তার জীববৈচিত্র অক্ষুন্ন থাকে। জাদুকাটা, ধোপাজান নদীসহ সকল নদীতে অবৈধভাবে পাড় কেটে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ করা। এর সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করা। সুনামগঞ্জের হাওরের ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করে মৎস্য প্রজনন নিশ্চিত করা। মাছের আধার নির্মাণ করে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা। হাওরের ফসল রক্ষার বাঁধের সুপরিকল্পনা গ্রহণ করা। বাঁধ নির্মাণে বিজ্ঞান সম্মত ও পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি প্রয়োগ করা। ফসল রক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও বিলম্ব রোধ করে হাওরের অর্থনীতি তথা ফসল উৎপাদনকে অব্যাহত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান,  সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান, জাহানারা বেগম ও ইদি আমিন লিয়ন। 


সিলেট প্রেস / টিএ


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৫-০৯-০২ ২০:৫৯:৫৫