সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর একটি শাখা কাকুড়া নদী। এটি উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের খাইরগাঁও মাধবপুর গ্রামঘেঁষে প্রবাহিত হয়ে ছাতক-সিলেট সড়কের লালপুল হয়ে মহাসিং নদীতে মিলিত হয়েছে। কয়েক বছর ধরে কাকুড়া নদীর মাধবপুর-খারগাঁও থেকে কান্দিগাঁও পর্যন্ত প্রবহমান নদীকে বদ্ধ নদী দেখিয়ে জেলা পরিষদ থেকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া কাকুড়া নদীর ইজারা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাকুড়া নদীতে নিয়মিতই বালু ও পাথরবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করে। ট্রলার ও নৌকা ছাড়াও কাকুড়া নদীপথে শান্তিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আক্তাপাড়া বাজারে বাঁশের বড় চালান পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে কাকুড়া নদীর ইজারাভুক্ত অংশটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন নদীর দুই পারের বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইজারাদারের লোকজন পরিচয়ে নদীতে চলাচলরত মালবাহী নৌকা, ট্রলার ও বাঁশের চালান থেকে চাঁদা আদায় করছে একটি চক্র।
এ ছাড়া নদী-তীরবর্তী গ্রাম মাধবপুর, খারগাঁও, হাজীহাটা, নোয়াগাঁও, মুক্তিরগাঁও, তিররাই, কান্দিরগাঁও, বাঁশখলা গ্রামের মৎস্যজীবীদের নদীতে মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন ইজারাদার নূরুল ইসলাম। এ বিষয়ে গত শুক্রবার কাজীরহাটা, মুক্তিরগাঁও এবং তিররাই গ্রামবাসীর উদ্যোগে সম্প্রতি ইজারাদারের বিরুদ্ধে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গদারমহল থেকে কাকুড়া নদীর শেষ সীমান্ত মহাসিং নদী পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকলেও মাধবপুর থেকে কান্দিগাঁও পর্যন্ত কেন উন্মুক্ত থাকবে না?
এ ব্যাপারে মুক্তিরগাঁও গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল গফুর, কাজীহাটা গ্রামের সেলিম আহমদ, দিলোয়ার হোসেনসহ একাধিক লোকজন বলেন, সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের মদদপুষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও কালারুকা ইউপির সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম ৩-৪ বছর ধরে কাকুড়া নদীর মাধবপুর-খারগাঁও থেকে কান্দিগাঁও পর্যন্ত চলমান নদীকে বদ্ধ নদী বলে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পরিষদ থেকে লিজের নামে মাছ ধরে বিক্রি ও নদীতে চাঁদাবাজি করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী কাকুড়া নদীর ইজারা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি ইজারার নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। উল্টো এলাকাবাসী নানা সময়ে তাঁর কাজে বাধা দিয়ে আসছে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















