সিলেটপ্রেস অনুসন্ধান

সিলেট রেলস্টেশনে টিকিটের কালো ছায়া: অনলাইনে নেই, দালালের কাছে দ্বিগুণ দামে!

  • প্রকাশের সময় : ১৪/০৭/২০২৬ ০৫:১৯:০০ AM

Share
4

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট যেন এখন সাধারণ যাত্রীদের কাছে ‘সোনার হরিণ’। নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে চেষ্টা করেও টিকিট মিলছে না, কাউন্টার থেকেও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। অথচ স্টেশন এলাকা ছাড়তেই দালালদের কাছে অতিরিক্ত দামে মিলছে কাঙ্ক্ষিত টিকিট—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক যাত্রী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী এবং টিকিট কালোবাজারিদের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা নিয়ম মেনে টিকিট সংগ্রহে ব্যর্থ হলেও দালালদের মাধ্যমে সহজেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।


সিলেটপ্রেসের সরেজমিনে সিলেট রেলস্টেশনে গিয়ে কথা হয় ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুনন্দা রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, টিকিট ছাড়ার নির্ধারিত সময় সকাল ৮টায় একাধিক মোবাইল দিয়ে চেষ্টা করেও ১-২ মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় পেমেন্ট সম্পন্ন করার আগেই দেখা যায়, টিকিট অন্য কেউ কিনে নিয়েছে।

এক নারী যাত্রী জানান, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ঢাকায় যেতে হয়। কিন্তু অনলাইনে কিংবা কাউন্টারে টিকিট না পেলেও স্টেশনের বাইরে দালালদের কাছে দ্বিগুণ দামে প্রায় সব টিকিটই পাওয়া যায়।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক চাকরিজীবী নারী বলেন, জরুরি প্রয়োজনে তিনি পরিচিত কয়েকজন রেলকর্মীর মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কিংবা ট্রেনে বসার ব্যবস্থা করেন। তাঁর দাবি, টিকিট না থাকলেও অর্থের বিনিময়ে যাত্রার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রী মুকাররম অভিযোগ করেন, কাউন্টারে টিকিট না থাকার কথা জানানো হলেও বাইরে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী তাকে টিকিট ছাড়াই ট্রেনে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথাও বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ভবিষ্যতে হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হওয়ায় সবাই টিকিট পান না। বাইরে টিকিট বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, কোথায় টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তা দেখান।


উল্লেখ্য, টিকিট কালোবাজারি রোধে গত বছর সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এনআইডি যাচাই বাধ্যতামূলকসহ একাধিক উদ্যোগ নেন এবং র‌্যাবের সহায়তায় আকস্মিক অভিযানও পরিচালনা করেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, কয়েকদিন পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পরে আবারও আগের চিত্র ফিরে আসে।

এ অবস্থায় সিলেট রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি, দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ টিকিট ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৪ ০৫:১৯:০০