ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই তেলবাজারে ঝড়, ৬ শতাংশ দাম বৃদ্ধি

  • প্রকাশের সময় : ০৮/০৭/২০২৬ ০৬:২১:২২ PM

Share
8

মধ্যপ্রাচ্যে ফের শুরু হয়েছে যুদ্ধের দামামা। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বুধবার (৮ জুলাই) ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত অবসানের জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখন আর কার্যকর নয়। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি হয়েছে। তার এমন মন্তব্যের পরেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে।Politics

বিবিসি বলছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৫৭ ডলার বা ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছায়।

একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ২৩ ডলার বা ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৬৭ ডলারে ওঠে। উভয় সূচকই গত ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবারও তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির অনুমতি দেয়া সাধারণ লাইসেন্স বাতিল করে।


বুধবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের জন্য যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন “শেষ”। তিনি আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততায় তিনি আগ্রহী নন।


গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর থেকেই চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে পড়ে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আবারও এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।


স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বাজার এখন আবার সেই ঝুঁকির মূল্য নির্ধারণ করছে- যদি জাহাজে নতুন হামলা হয় বা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়, তাহলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক তেল পরিবহন ব্যাহত হতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবে তারা বিমান হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বুধবার ভোরে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।


এমএসটি মারকির গবেষণা বিভাগের প্রধান সাউক কাভোনিভ বলেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি আবারও কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অন্তত চারটি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা থেকে ফিরে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তখন অনেক বিনিয়োগকারী ভবিষ্যতে দাম আরও কমবে- এমন প্রত্যাশায় বড় আকারে শর্ট পজিশন নিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় সেই হিসাব বদলে যেতে শুরু করেছে।Politics


এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন দেশ মজুত তেল ব্যবহার করে সরবরাহ ঘাটতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।


এসইবি ব্যাংকের প্রধান পণ্য বিশ্লেষক বেয়ার্নে শিলড্রপের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি তেলের দামই বাজারের বাস্তব অবস্থার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ, ৭০ ডলার নয়।


অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী দেশ চীন জুলাই মাসের বাকি সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। পাশাপাশি চার মাস বন্ধ থাকার পর একটি বেসরকারি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানকে আবারও জ্বালানি রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধজনিত বিঘ্ন কাটিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে বাণিজ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে।


সিলেট প্রেস / নিউজ ডেস্ক


কমেন্ট বক্স
 আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৮ ১৮:২১:২২