সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা ফের প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে নবগঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির ব্যবস্থাপনায় এবার দানের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সদস্য, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী শনিবার দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে এই গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর ফলে প্রথমবার গণনার মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে মাজারের টাকা। এই গণনা কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান।
এর আগে সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। পরবর্তীতে গত ২২ জুন প্রায় ৭শ বছরের প্রথা ভেঙে মাজারের ঐতিহাসিক ডেক ও দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা সোনালী ব্যাংকের একটি নতুন অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়।
প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপন ও খোলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এই কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেটের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মোতাওয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। এই কমিটির সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন জেলা প্রশাসক।
মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতির পর এবার এই নবগঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানেই দ্বিতীয় দফায় গণনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হতে যাচ্ছে। এবারের গণনাকৃত অর্থও পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকের সেই নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে বলে জানা গেছে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















