সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ব্যবসায়ী হাজী রাজ্জাক হোসেন (৬৫) হত্যাকাণ্ডের আট মাস পার হলেও এখনো মামলার কোনো আসামি শনাক্ত না হওয়ায় তদন্তের গতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহতের পরিবার। এ অবস্থায় মামলাটি থানা পুলিশের পরিবর্তে পিবিআই বা সিআইডির মতো বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন নিহতের ছোট ভাই মো. এমদাদ হোসেন।
আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে কার্যত কোনো যোগাযোগ করেননি এবং তদন্তের অগ্রগতিও জানানো হয়নি। এতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যেতে পারে বলে পরিবারের আশঙ্কা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানার তেলিরাই এলাকার নিজ বাসার তৃতীয় তলার একটি স্টোররুম থেকে হাজী রাজ্জাক হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার পর পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় পুলিশ জানায়, ঘটনার সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি ওই বাসায় প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই মো. আনোয়ারুল কামাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের ভাই এমদাদ হোসেনের দাবি, শুরুতে পরিবার শোকাহত থাকায় ঘটনার প্রকৃত দিকটি অনুধাবন করতে পারেননি। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর তাদের কাছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্তে তাদের মতামত বা তথ্য যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ প্রসঙ্গে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ঘটনাটি তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দ্রুত রহস্য উদঘাটনের আশা করছেন।
অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এবিএম শাহ আলম তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং নিহতের পরিবারের একাধিক সদস্যকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত শেষ করে শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদনের অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং দক্ষিণ সুরমা থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:



















