সিলেট সদর উপজেলার চেঙ্গেরখাল নদীর সালুটিকর-বাদাঘাট নৌপথে ৩ নম্বর খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নামে নৌযান থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বিষয়টি এতদিন প্রশাসনের নজরের বাইরে ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদিমনগর ইউনিয়নের পীরেরগাঁও গ্রামের মৃত সুনু মিয়ার ছেলে শামিম ও রুবেল এবং বুলাই মিয়ার ছেলে শফিকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের লিজ রয়েছে দাবি করে 'মেসার্স আসফিয়া এন্টারপ্রাইজ' নামে রশিদ ব্যবহার করছেন। ওই রশিদের মাধ্যমে সালুটিকর-বাদাঘাট নৌপথে চলাচলকারী বালু ও পাথরবোঝাই ইঞ্জিনচালিত নৌকা, বার্জ ও কার্গো জাহাজ থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবেল ও শামিমের ভাই কবির আহমদ নিজেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মার্কম্যান পরিচয় দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, কবিরের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অর্থ আদায় করছে। এ চক্রের সঙ্গে পীরেরগাঁও গ্রামের আব্দুল হাসিম, আব্দুর রহমান ও হারুন মিয়ার নামও স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কবিরের হয়ে শামিম, রুবেল ও শফিক নৌযান থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন এবং পরে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কবির আহমদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে ফোন কেটে দেন। রুবেল অভিযোগ অস্বীকার না করলেও বৈধ কাগজপত্র দেখাবেন বলে জানিয়ে পরে আর যোগাযোগ করেননি। শফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে হারুন ট্যাক্সের নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজেকে এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম বলেন, "চেঙ্গেরখাল এলাকায় কবির নামে কোনো মার্কম্যান দায়িত্ব পালন করছেন কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।"
৩ নম্বর খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দিলোয়ার হোসেন বলেন, "নদীপথে ইউনিয়ন পরিষদের নামে ট্যাক্স আদায়ের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়া হয়নি। ভুয়া রশিদ ও জাল লিজের কাগজপত্র ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।"
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে নদীপথে দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম বন্ধ হবে এবং নৌযান শ্রমিকদের হয়রানিও কমবে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক



















