হবিগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী খালেকের উত্থানের নেপথ্য কাহিনি

  • প্রকাশের সময় : ২৩/০১/২০২৬ ০৮:৫৩:০৪ PM

আব্দুল খালিক ওরফে খালেক

Share
61

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের লাতুরগাঁও গ্রামের করম আলীর ছেলে আব্দুল খালিক ওরফে খালেকের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, বন মামলা, নারী নির্যাতন ও তিনটি হত্যা মামলাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি ধীরে ধীরে এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীতে পরিণত হন।

প্রায় ২০ বছর আগে চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বনে গাছ চুরির মাধ্যমে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। ৪/৫ বছর গাছ পাচারে সাহসী ভুমিকা দেখে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও হবিগঞ্জ জজ কোর্টের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু তাকে যুবলীগে যোগদান করান। রেমা-কালেঙ্গা বনের মুল্যুবান গাছ এর ভাগ-ভাটোয়ারা পেয়ে এডভোকেট আকবর হোসাইন জিতুর একান্ত বিশ্বস্ত হয়ে উঠে খালেক।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৫ সালে সোনাই মিয়া, ২০১৮ সালে মহিবুল হোসেন এবং ২০২৪ সালে আব্দুল হাসিম হত্যাকাণ্ডে খালেক সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার একাধিক ডাকাতির মামলাতেও তার নাম রয়েছে। স্থানীয় পাহাড়ি এলাকায় নারীদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। পাহাড়ী অঞ্চলে তার পছন্দের কোন নারী চোখে পড়লেই আর রেহাই নেই। ধর্ষন ও গাছ চুরি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার তার কাছে।

চুনারুঘাট-পুর্বাঞ্চলে ৫০/৬০ জন এর একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরী করেন। এরই মধ্যে তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে চুনারুঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফুর চৌধুরীর সাথে। দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী খালেক কে মিরাশী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দেন তিনি। এই সময় ইউনিয়ন যবলীগের সভাপতি ছিলেন ইলেকট্রিশিয়ান ফজল মিয়া।

শুধু তাই নয় ৫০টি মামলার আসামী খালেক কে বন রক্ষা কমিটি সুফল এর সভাপতি পদ দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আকবর হোসাইন। এতে আরো উৎসাহী হয়ে জয় রেমা-কালেঙ্গা-জঙ্গলের শত বছরের পুরোনো হাজার হাজার গণফুট গাছ পাচার করে তারা।

সম্প্রতি ১৭ জানুয়ারি রাতে চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের কালেঙ্গা পাহাড়ের ছনবাড়ি এলাকার ত্রিপুরা পল্লীতে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার সময় স্থানীয় জনগণ খালেককে আটক করে বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করে। পরে চুনারুঘাট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে। এই শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে পারে বলে জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান,  তিনটি হত্যা মামলা সহ প্রায় অর্ধশতাধিক ডাকাতি, চুরি, ধর্ষণ, বন মামলা, নারী নির্যাতন, এটেম টু মার্ডার সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মামলার আসামি আব্দুল খালিক জামিনে মুক্তি পাওয়ার আশঙ্কায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও বনপ্রহরীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার হত্যা মামলা সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মামলার তথ্য গোপন রেখে আদালত থেকে একটি মামলায় জামিন দেয় এবং কারাগার থেকে বাহির হওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে চুনারুঘাট থানা পুলিশ তাকে বৈষম্য বিরোধী মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে জেল হাজতে পুনরায় প্রেপ্তার দেখিয়ে আটক করা হয়।

জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সন্ত্রাসী খালিক এর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার সহ বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে একটি মামলায় জামিন পায় এবং কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক নেতা বলেন, এবার অতি সহজে যদি খালিক জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হয়ে আসে তাহলে আমাদের জীবনে দুর্বিশ্ব নেমে আসবে এবং আমাদের মহিলাদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ডের মতো  ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। আমরা উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছি। তাই তারা আনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানান আব্দুল খালিক এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে জামিনে মুক্তি না দেওয়া হয় এবং তার শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।


হবিগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী খালেকের উত্থানের নেপথ্য কাহিনি

আব্দুল খালিক ওরফে খালেক

 

 



হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের লাতুরগাঁও গ্রামের করম আলীর ছেলে আব্দুল খালিক ওরফে খালেকের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, বন মামলা, নারী নির্যাতন ও তিনটি হত্যা মামলাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি ধীরে ধীরে এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীতে পরিণত হন।

প্রায় ২০ বছর আগে চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বনে গাছ চুরির মাধ্যমে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। ৪/৫ বছর গাছ পাচারে সাহসী ভুমিকা দেখে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও হবিগঞ্জ জজ কোর্টের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু তাকে যুবলীগে যোগদান করান। রেমা-কালেঙ্গা বনের মুল্যুবান গাছ এর ভাগ-ভাটোয়ারা পেয়ে এডভোকেট আকবর হোসাইন জিতুর একান্ত বিশ্বস্ত হয়ে উঠে খালেক।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৫ সালে সোনাই মিয়া, ২০১৮ সালে মহিবুল হোসেন এবং ২০২৪ সালে আব্দুল হাসিম হত্যাকাণ্ডে খালেক সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার একাধিক ডাকাতির মামলাতেও তার নাম রয়েছে। স্থানীয় পাহাড়ি এলাকায় নারীদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। পাহাড়ী অঞ্চলে তার পছন্দের কোন নারী চোখে পড়লেই আর রেহাই নেই। ধর্ষন ও গাছ চুরি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার তার কাছে।

চুনারুঘাট-পুর্বাঞ্চলে ৫০/৬০ জন এর একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরী করেন। এরই মধ্যে তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে চুনারুঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফুর চৌধুরীর সাথে। দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী খালেক কে মিরাশী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দেন তিনি। এই সময় ইউনিয়ন যবলীগের সভাপতি ছিলেন ইলেকট্রিশিয়ান ফজল মিয়া।

শুধু তাই নয় ৫০টি মামলার আসামী খালেক কে বন রক্ষা কমিটি সুফল এর সভাপতি পদ দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আকবর হোসাইন। এতে আরো উৎসাহী হয়ে জয় রেমা-কালেঙ্গা-জঙ্গলের শত বছরের পুরোনো হাজার হাজার গণফুট গাছ পাচার করে তারা।

সম্প্রতি ১৭ জানুয়ারি রাতে চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের কালেঙ্গা পাহাড়ের ছনবাড়ি এলাকার ত্রিপুরা পল্লীতে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার সময় স্থানীয় জনগণ খালেককে আটক করে বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করে। পরে চুনারুঘাট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে। এই শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে পারে বলে জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান,  তিনটি হত্যা মামলা সহ প্রায় অর্ধশতাধিক ডাকাতি, চুরি, ধর্ষণ, বন মামলা, নারী নির্যাতন, এটেম টু মার্ডার সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মামলার আসামি আব্দুল খালিক জামিনে মুক্তি পাওয়ার আশঙ্কায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও বনপ্রহরীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার হত্যা মামলা সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মামলার তথ্য গোপন রেখে আদালত থেকে একটি মামলায় জামিন দেয় এবং কারাগার থেকে বাহির হওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে চুনারুঘাট থানা পুলিশ তাকে বৈষম্য বিরোধী মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে জেল হাজতে পুনরায় প্রেপ্তার দেখিয়ে আটক করা হয়।

জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সন্ত্রাসী খালিক এর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার সহ বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে একটি মামলায় জামিন পায় এবং কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক নেতা বলেন, এবার অতি সহজে যদি খালিক জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হয়ে আসে তাহলে আমাদের জীবনে দুর্বিশ্ব নেমে আসবে এবং আমাদের মহিলাদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ডের মতো  ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। আমরা উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছি। তাই তারা আনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানান আব্দুল খালিক এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্র্ধষ সন্ত্রাসীকে জামিনে মুক্তি না দেওয়া হয় এবং তার শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।


সিলেট প্রেস / এফ.কে


কমেন্ট বক্স
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০২৬-০১-২৩ ২০:৫৩:০৪