সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার প্রসারের কোনো বিকল্প নেই। আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি যেখানে শুধু তাত্ত্বিক ডিগ্রি দিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব। আমাদের বিপুল তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে তা দেশের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষা এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে সরাসরি কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তুলছে। একজন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ কখনো বেকার থাকে না।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এসেট প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘চাকরি মেলা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শুয়াইব আহমদ ও সিলেট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ সন্তোষ চন্দ্র দেবনাথ। সভাপতিত্ব করেন সিলেট সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি অনুষদের চিফ ইনস্ট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী।
এর আগে সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘চাকরি মেলা ২০২৬’ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সিলেট পলিটেকনিকে অনুষ্ঠিত এই মেলায় একদিকে যেমন নিয়োগকর্তারা সরাসরি দক্ষ কর্মী খুঁজে পাচ্ছেন, অন্যদিকে আমাদের শিক্ষিত তরুণরা সরাসরি ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। তাই এটা একটা চমৎকার মেলবন্ধন ও বটে।
সিলেট সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে এমন চমৎকার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এই মেলার মাধ্যমে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। সিলেট সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের অর্থায়নে কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়। এবারের মেলায় ২৪টি চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। প্রায় ২০০টি পদের বিপরীতে ১০০০ এর অধিক আবেদন জমা পড়ে। দিনব্যাপী এই মেলায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির পরিচিতি সেশন, নেটওয়ার্কিং এবং নিয়োগকর্তাদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ, সিভি জমাদান ও ইন্টারভিউয়ের সুযোগ ছিল। মেলা প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলমান থাকে। মেলায় বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠামালায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, ইন্সট্রাক্টর ( ইলেকট্রনিক) রিফাত খান, ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রিক্যাল) সরোজ কুমার হালদার, ইন্সট্রাক্টর ( ইলেকট্রিক্যাল) ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, চিফ ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) মো. গোলাম কিবরিয়া, ইনস্ট্রাক্টর ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
দিনব্যাপী চাকুরিমেলার বিভিন্ন পর্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) মোসা. রুনা লায়লা চৌধুরী ও ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) দেবযানী তরফদার।



















