সিলেট সদর উপজেলার ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নে সরকারি কয়েক কোটি টাকার খাস জমি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করছে একটি ভুমিখেকো সিন্ডিকেট। টিলা-পাহাড়, বন ও চা বাগানের মাটি কেটে প্লট বানিয়ে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। নিজেরাই দখল মালিক সেজে জমি বিক্রি করছে এই ভুমিখেকো সিন্ডিকেট। আবার অনেকে পাহাড় ও টিলা কেটে সে সব স্থানে নিজেদের নামে আবাসিক এলাকার নামকরণও করে রেখেছেন। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোক দেখানো আইওয়াশ অভিযান হলেও অদৃশ্য কারণে আইনত ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের অন্ধত্বের ফলে সাধারণ জনগন খুব প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১১ সনে খাদিম চা বাগানের মালিক নীনা-আফজাল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিডেটের পক্ষে আফজাল রশিদ চৌধুরী সিলেট সদর উপজেলার খাদিম নগর টি-গার্ডেন মৌজার জে.এল.নং সাবেক- ৭১, হাল ৭১ ও দেবপুর মৌজার জে.এল.নং- সাবেক-৯৬, হাল- ৮১ ইজারাধীন জমির পরিমাণ সর্বমোট ১৮০১.৫৬ একর জায়গা লীজের জন্য সরকারের পক্ষে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আবেদন করলে জেলা প্রশাসক যাচাই বাচাই করে ২০১২ইং থেকে ২০৩২ ইং পর্যন্ত ২০ বছরের জন্য লীজ প্রদান করেন। এমতাবস্থায় খাদিম নগর টি-গার্ডেন মৌজার জে.এল.নং- সাবেক- ৭১ ও হাল- ৭১ এর অর্ন্তভুক্ত প্রকাশিত ১১৪২ ও ১১৫৫ সহ উক্ত মৌজার অন্যান্য দাগে ৩ নম্বর উপজাতি কুলিবস্তি এলাকা ছিলো যা কাগজপত্রে উল্লেখিত। বর্তমানে ভুমিখেকো সিরাজ নগর (সবুজ নগর) বস্তি এলাকার মৃত আহমদ আলীর পুত্র সিরাজুল ইসলাম সিরাজ মিয়া সহ তার হাতে গড়া একটি ভুমিখেকো সিন্ডিকেট চক্রের সহযোগিতায় ৩ নম্বর উপজাতি কুলিবস্তি এলাকা রাতারাতি পরিবর্তন করে সিরাজ নগর (সবুজ নগর) বস্তি এলাকায় রুপান্তিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস যেন কারোই নেই। আর কেউ যদি তাদের এই অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাহলেতাকে হামলা-মামলার সম্মুখীন হতে হয়। সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তিটাও বেশ লম্বা। ওই এলাকায় বাস করেন কয়েক হাজার মানুষ। তাদের দেখ ভালের দায়িত্বটাও নিজেই নিয়েছেন কৌশলে। ক্ষমতার দাপটে ইচ্ছা হলে জনবসতি উচ্ছেদ করেন, আবার ইচ্ছা হলে নতুন বসতি গড়ে দেন। অবৈধ ভাবে ঘর তুলতে ও জমি কেনাবেচায় তাকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। তার নামে রয়েছে হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি, টিলার মাটি বেচাকেনা ও সরকারি কাজে বাধাসহ হরেক অপরাধের অভিযোগ।
স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে, সিরাজ মিয়া পূর্বে একজন দিনমজুর ও রিকশাচালক ছিলেন। ১৯৯৫ সনের দিকে সে খাস জায়গার বহর মৌজার অর্ন্তভূক্ত ১৪২ নং দাগের মধ্যে ছনের ঘর তৈরী করে বসবাস করতেন। সেই সুবাধে খাদিম নগর টি-গার্ডেন মৌজার জে.এল.নং- সাবেক- ৭১ ও হাল- ৭১ এর অর্ন্তভুক্ত প্রকাশিত ১১৪২ ও ১১৫৫ মধ্যে কয়েকটি কুড়ে ঘর তৈরী করে জবর দখল বাণিজ্য শুরু হয়। খাদিম চা বাগানের ব্যবস্থাপক তাদের ম্যানেজার শামীম নামে পরিচিত ছিলেন। তখন তাদের এই অবস্থা দেখে ম্যানেজার শামীমের নেতৃত্বে বাগানের চৌকিদার ও তাদের শ্রমিকদের নিয়ে সিরাজ গংদের সেখান থেকে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে উচ্ছেদ করে দেন। কিন্তু এই সিরাজ মিয়া গং পূনরায় আবারো কৌশলে সেখানে জবর দখল করে বসবাস শুরু করে। সেই সুবাদে বর্তমানে সিরাজ মিয়াগং নিজের নামে ও তার ছেলে সবুজের নামে নামকরণ করে সিরাজনগর ও সবুজনগর এলাকায় পরিনত করেছে। এখন সিরাজ নিজেকে এই এলাকার কর্ণধার দাবী করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের নিকট স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সরকারি খাস জায়গা অনায়াসে বেচাকেনা করছে যা দেখার কেউ নেই। যাতে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তবে অনেকের অভিযোগ লীজ গ্রহীতা খাদিম চা-বাগানেরে ম্যানেজার আতিকুর রহমান আতিকের যোগ সুত্রে সিরাজ প্রকাশ্যে এই রমরমা দখল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ম্যানেজার আতিক নিজের পকেট ভারী করার স্বার্থে সিরাজের ভাতিজা ইকবাল, পাপ্পু ও সিরাজের শালা কালা ডাকাতের পুত্র সুলতানকে খাদিম চা বাগানের চৌকিদারের দায়িত্ব প্রদান করেন। চৌকিদারের দায়িত্ব পেয়ে ইকবাল, পাপ্পু ও সুলতান রাতারাতি ফুলে ফেঁপে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। তাদের ব্যাপোরায়া কর্মকান্ডে অসহায় এখন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, বাগানের পাশ্ববর্তী অসহায় কোন লোক বাগান হইতে জীবিকার তাগিদে লাকড়ী সংগ্রহ করতে গেলে তখন তারা সেই লোকজনের নিকট হইতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১শ, ২শ টাকা করে চাঁদা নেয় আর যারা তাদের কথামতো চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায় তারা। এমনকি এই বাগানে পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের গরুদের ঘাষ খাওয়ানোকে কেন্দ্র করেও তাদের চাঁদাবাজিও থেমে নেই। বাগানে গরুকে ঘাস খাওয়াতে প্রত্যক গরু প্রতি ১০০ টাকা করে সপ্তাহে চাঁদা দিতে হয় তাদের এবং বাগানের উপজাতি সুমনের ঘরের পিছনে, সত্তার মিয়র চা দোকানের ভিতরে ও সবুজ প্রেসিডেন্টের বাড়ির পাশে চৌকিদার, ইকবাল, পাপ্পু ও সুলতানের শেল্টারে প্রতিদিন চলছে জমজমাট তীর জুয়ার ঝান্ডু-মন্ডুর আসর। অভিযোগ রয়েছে এই জুয়ার আসর থেকে বাগানের ম্যানেজার আতিকও আর্থিক ফায়দা হাসিল করছেন বিধায় তিনি এসব দেখেও না দেখার অভিনয় করেন। এদিকে সিরাজ মিয়া গংদের এই খাস জায়গা জবর দখলও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি বেচাকেনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় দফায় দফায় সিরাজ মিয়া গংদের হামলা ও মিথ্যা মামলার স্বীকার হচ্ছেন প্রতিবাদি এক যুবক। তার নাম মোঃ মঈন উদ্দিন তিনি জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন শাহপরান (রহ.) থানা শাখার সভাপতি। তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াঁনোর অপরাধে কয়েকবার তিনি হামলার সম্মুখীন হয়েছেন ইতিমধ্যে। জানা গেছে, এই বাহিনীর বিরুদ্ধে গত ০৩/১১/২২ইং তারিখে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। যাহার থানার জিডি নং ১৩৫ এবং সিরাজ মিয়া গংদের কবল হইতে সরকারী খাস জমি জবর দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এছাড়া গত ০৮/১১/২২ইং তারিখে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এছাড়াও বিগত দুই বছর থেকে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে একের পর এক লিখিত অভিযোগ করে আসছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সিরাজ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি বেচাকেনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জমিদারের পক্ষে তিনি একটি মামলা করেছেন যা আদালতে এখনও চলমান রয়েছে। যেহেতু জায়গা সরাকারের তখন কি আপনি সরকারের জায়গা এভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বাদ দেন আমি আপনার সঙ্গে দেখা করে আলাপ করবো বলে কৌশলে ফোন রেখে দেন। এ ব্যাপারে খাদিম চা বাগানেরে ম্যানেজার আতিকুর রহমান আতিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এসব বিষয় তাহার জানা নেই, তিনি খবর নিয়ে দেখছেন বলে ফোন রেখে দেন। এ ব্যাপারে খাদিম চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশিদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ২০ বছরের লীজের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ভুমিখেকো চক্র বাগানের জায়গাতে চুরি করে টিলা কাটা থেকে শুরু করে নানারুপ কর্মকান্ড করছে, কিন্তু থানা পুলিশ, ইউএনও, সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর ও ডিসি অফিসে বার বার আমি অভিযোগ করে ব্যার্থ হচ্ছি। কারণ এই সেক্টরগুলোতে আমি দফায় দফায় লিখিত অভিযোগ দিলে তারা দেখছি, দেখবো বলেন কিন্তু কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। যার জন্য এই চক্রের আরো তৎপরতা বেড়েই চলছে দিন দিন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট আবেদন করেন।
এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত আজমেরী হকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন পরে যোগাযোগ করার জন্য বলেই ফোন রেখে দেন।




















