শাবিতে ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর, অভিযুক্ত ২ ছাত্রদল নেতা

  • প্রকাশের সময় : ১৯/০৭/২০২৬ ০৪:০৪:৪৮ PM

অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতা

Share
8

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরান আবাসিক হলের ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় এক নবীন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। 


শনিবার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


মারধরের শিকার খাইরুল খন্দকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।


অভিযুক্তরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তারেক রহমান।


ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার জানান, গত শুক্রবার হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিনি হল প্রভোস্টকে মেনশন করে হলের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেন। পরে ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান তাঁকে ডেকে জানান যে, ওই পোস্টে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং প্রভোস্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন।


খাইরুল আরও জানান, ওই দিন রাতেই আবারও হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে তিনি নতুন করে ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেন। এরই জেরে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গেলে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। খাইরুল তখন জানান, এ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্টই বলবেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল নেতা হাসিবুর রহমান তাঁর বুকে লাথি মারেন এবং তারেক রহমান মাথার পেছন ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।


অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত তারেক রহমান দাবি করেন, হলের খাবার নিয়ে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় প্রভোস্ট কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে গেলে খাইরুল আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসিবুর রহমানের চশমা ভেঙে যায়, হাতে আঘাত লাগে এবং তাঁর মোবাইল ফোনও নষ্ট হয়।


এ বিষয়ে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কাউকে মারধরের নির্দেশ বা এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের মদদ আমি দিইনি। হলের যেকোনো সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলে আমি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করি এবং আমার কাছে সব শিক্ষার্থী সমান।


এদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধরের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


পরে শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। তিনি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৯ ১৬:০৪:৪৮