সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) নিবাস চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারি গাড়ি নিয়ে সিলেটে অবস্থান, সন্তানদের কোচিংয়ে আনা-নেওয়া, কেনাকাটা এবং পর্যটনকেন্দ্রে পারিবারিক ভ্রমণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, সুনামগঞ্জে যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত সিলেটে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন এবং কর্মদিবসের একটি বড় অংশে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে সিলেটে যাতায়াত করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে সরকারি গাড়িটি সিলেটে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের গ্যারেজে রাখা হতো। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর গাড়ি রাখার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে উপপরিচালক তাঁর সন্তানদের কোচিংয়ে আনা-নেওয়া করেছেন। পাশাপাশি পরিবার নিয়ে সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি এক কর্মদিবস শেষে বিকেলে সরকারি গাড়ি নিয়ে তিনি সিলেটে চলে যান এবং পরদিন কোনো দাপ্তরিক অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে একটি সরকারি সভায় অংশ নিতে তিনি ফিরে আসেন।
সরকারি যানবাহন ব্যবহারের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, দাপ্তরিক প্রয়োজন ছাড়া সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার বিধিবহির্ভূত। এ ধরনের ব্যবহারে সরকারি অর্থের অপচয় ও সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপপরিচালক নিবাস চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের কাছে কোনো কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত নই। আমি যা করি, সিলেটের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে জানিয়েই করি।
এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কাউকে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূত। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক



















