সিলেটে সমাবেশের দিনে ‘১১ দলীয় ঐক্য’ ছাড়ল খেলাফত মজলিস

  • প্রকাশের সময় : ২৫/০৭/২০২৬ ০৭:০৬:৩৩ PM

Share
3

সিলেটে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় এক্য’-এর বিভাগীয় সমাবেশ চলছে। শনিবার দুপুর ২ টায় নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশ শুরু হয়। সিলেটে যখন সমাবেশে অংশনিয়েছেন শফিকুর রহমানসহ জোটের নেতারা তখন ঢাকায় বসেেজোট ছঅড়ার ঘোষণা দিলো খেলাফত মজলিস।

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরুর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যে-কোনো কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস নিজেদের বিরত রাখবে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ দলীয় এই ঐক্য মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল, যা নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গেই তার মূল কার্যকারিতা হারিয়েছে। নির্বাচনোত্তর কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এখন থেকে এই প্রক্রিয়ায় আর থাকছে না দলটি।

অবশ্য ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের প্রয়োজনে বৃহত্তর কোনো ঐক্য গড়ে তোলার তাগিদ এলে তা বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়।


দলটির আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় সভায় নায়েবে আমীর, যুগ্ম মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিসে শূরার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ভাঙনের সূত্রপাত গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশের পর। সেখানে খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে যেন কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় দলের নাম বা নেতাদের নাম ব্যবহার করা না হয়। পরবর্তীতে রংপুরের সমাবেশে ফের নাম ব্যবহার করা হলে দলটির আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয় এবং এরপর থেকে জোটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের নাম ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এর আগে ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কওমি ধারার ৭টি ইসলামী দলের পৃথক মতবিনিময় সভার পর থেকে জোট ভাঙার গুঞ্জন তীব্র হয়। তবে জোটের অন্যান্য শরিকরা এই ভাঙনের খবরকে সম্পূর্ণ গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার জানান, নির্বাচনের পরও জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্নভাবে সংঘাত, মনোমালিন্য ও ভুল–বোঝাবুঝি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জোটের নেতারাও সচেতন।


অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট করে বলেন, ১১ দলীয় জোট ১১ দল হিসেবেই মাঠে থাকবে। সংস্কারের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সিলেটের সমাবেশে খেলাফত মজলিসের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে জোটের নেতারা অভিযোগ তোলেন, বিএনপি সরকার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জোট ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিভ্রান্ত হয়ে এমন ভুল করে তবে তাদের খেসারত দিতে হবে, আর সরকারের এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত এজেন্ডা কখনোই সফল হবে না।


পুরো বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, নির্বাচনের পর এই সময়ে জোটে ভাঙন ধরে যাওয়া দলগুলোর অবস্থানকে সামগ্রিক রাজনীতিতে দুর্বল করে ফেলতে পারে। ইসলামী দলগুলো যৌথভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়েছিল, জোট বিচ্ছিন্ন হলে তারা সেই সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

তিনি মনে করেন, কেবল জোটে থাকা বা না থাকা নয়— জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিতে রাজনীতি পরিচালিত না হলে কোনো উদ্যোগই অর্থবহ হবে না।


সিলেট প্রেস / নিউজ ডেস্ক


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২৫ ১৯:০৬:৩৩