যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বে বড় কড়াকড়ি: ‘গুড ক্যারেক্টার’ শর্তে বাদ পড়তে পারেন অনেক আবেদনকারী

  • প্রকাশের সময় : ১৪/০৭/২০২৬ ১০:৫২:৩৬ AM

Share
3

যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে ‘গুড ক্যারেক্টার’ (সু-চরিত্র) শর্ত আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস)। ১০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় সব আবেদনকারীর জন্য এই শর্ত বাধ্যতামূলক। হোম অফিসের মূল্যায়নে কেউ ‘সু-চরিত্রের অধিকারী’ হিসেবে বিবেচিত না হলে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

হোম অফিসের নীতিমালা অনুযায়ী, গুরুতর অপরাধ, প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ, ওভারস্টে, অনুমতি ছাড়া কাজ করা, ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন, ভুয়া (শ্যাম) বিয়ে এবং ইংরেজি ভাষা বা Life in the UK পরীক্ষায় জালিয়াতির মতো বিষয়গুলো নাগরিকত্বের আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।

এছাড়া আবেদনকারীদের অতীতের সব ধরনের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বহু বছর আগের ‘স্পেন্ট’ অপরাধ, স্পিডিং বা পার্কিং ফাইনসহ অন্যান্য সড়ক পরিবহন-সংক্রান্ত জরিমানার তথ্যও গোপন না করার পরামর্শ দিয়েছে হোম অফিস। তথ্য গোপন করলে সেটি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতের আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৩ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে অপরাধ-সংক্রান্ত নীতি আরও কঠোর হয়েছে। এক বছরের বেশি কারাদণ্ড, গুরুতর সহিংস বা যৌন অপরাধ কিংবা বারবার অপরাধ করার ইতিহাস থাকলে আবেদন সাধারণত প্রত্যাখ্যাত হবে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির পর অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করা হয়েছে। তবে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি, শিশু অবস্থায় যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে এমন ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষাপ্রাপ্ত কিছু শরণার্থীর জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

শুধু অপরাধ নয়, আর্থিক বিষয়ও এখন ‘গুড ক্যারেক্টার’ মূল্যায়নের অংশ। জালিয়াতিপূর্ণ দেউলিয়াত্ব, কোম্পানি পরিচালনায় গুরুতর অনিয়ম, বড় অঙ্কের এনএইচএস ঋণ বা সরকারি পাওনা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিশোধ না করাও আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে।

তবে ইতিবাচক দিকও বিবেচনা করা হবে। দীর্ঘদিন আইন মেনে চলা, সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, দাতব্য কর্মকাণ্ড এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান আবেদনকারীর পক্ষে সহায়ক হতে পারে।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় কোনো তথ্য গোপন না করে সম্পূর্ণ ও সঠিক তথ্য প্রদান করা উচিত। যাদের অতীতে অপরাধ, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে, তারা আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

ছবির ক্যাপশন: যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় ‘গুড ক্যারেক্টার’ যাচাই আরও কঠোর করেছে হোম অফিস।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৪ ১০:৫২:৩৬