সত্যিই কি শাহজালালের (র.) বংশধর আছে, মাজার কাদের হাতে

  • প্রকাশের সময় : ২৫/০৬/২০২৬ ০৬:৫৭:৫৭ AM

Share
6

সিলেটের মাটিতে যার পদস্পর্শে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই মহান আউলিয়া হযরত শাহজালাল (র.) এর নাম এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রতিবছর তার মাজার জিয়ারত করতে আসেন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে এই মহান সাধকের রক্তের উত্তরাধিকার কি আজও বেঁচে আছেন? নাকি সময়ের স্রোতে তা বিলীন হয়ে গেছে?

ইতিহাস ও ইসলামী জীবনীগ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল (র.) আজীবন অবিবাহিত ছিলেন। দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত এই দরবেশ সংসারজীবন গ্রহণ করেননি। ফলে তার ঔরসজাত কোনো সন্তান-সন্ততি নেই এই বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

তাহলে ‘শাহজালালের বংশধর’ বলতে আসলে কাদের বোঝানো হয়?

ভাগিনা শাহপরান (র.) রক্তের একমাত্র সূত্র
ইতিহাসের পাতায় যে নামটি বারবার আসে, তিনি হলেন হযরত শাহ পরান (র.)। তিনি ছিলেন শাহজালালের বোনের ছেলে, অর্থাৎ ভাগিনা। শাহজালালের সাথে ইসলাম প্রচারে যোগ দিয়ে সিলেটে আসেন তিনি। সিলেটের বালাগঞ্জে তার মাজার আজও বিদ্যমান।

তাত্ত্বিকভাবে, শাহ পরানের বংশধররাই কেবল শাহজালালের রক্তসম্পর্কীয় উত্তরাধিকারী হতে পারেন। তবে সেই বংশধারা আজও অক্ষুণ্ন আছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানতে হলে গভীর গবেষণা প্রয়োজন।

৩৬০ আউলিয়ার বংশধররা আজও সিলেটে

হযরত শাহজালালের সাথে যে ৩৬০ জন আউলিয়া সিলেটে এসেছিলেন, তাদের অনেকের বংশধর আজও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা যায়। তারা সরাসরি শাহজালালের রক্তের উত্তরাধিকারী না হলেও আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘বংশধর’ পরিচয়ে যারা মাজারকেন্দ্রিক প্রভাব রাখছেন

সিলেটের স্থানীয় মহলে অনেককেই ‘শাহজালালের বংশধর’ পরিচয়ে পরিচিত হতে দেখা যায়। তবে ইতিহাসের আলোকে এই দাবির ভিত্তি কতটুকু তা যাচাইয়ের দাবি রাখে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদা ও মাজারকেন্দ্রিক প্রভাব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

সিলেটের ইতিহাস গবেষকরা বলেন, শাহজালাল (র.)-এর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার বেচে আছে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসায়। কিন্তু রক্তের উত্তরাধিকার এই প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসই দিয়েছে। তিনি বিবাহ করেননি, সুতরাং সেই অর্থে কোনো বংশধর নেই।

হযরত শাহজালাল (র.) সন্তান রেখে যাননি তবে রেখে গেছেন এক অমর উত্তরাধিকার। সিলেটের মাটি, মানুষ ও ইসলামের ইতিহাস এটাই তার আসল বংশধারা। সেই ধারা আজও বহমান, থাকবে অনন্তকাল।

এদিকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মাজারের মোতাওয়াল্লি মাজারের দান খয়রাতের অর্থের বিষয়ে বলেন, ‘আয়ের কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। কারণ প্রতি মাসে সমান আয় হয় না। এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল ও কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়। আমরা যে খাই না, তা নয়। আমরা খাই, আবার মাজারের খরচও চালাই। এভাবেই এত বছর ধরে চলে আসছে।’

তবে  সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবার থেকে তদারকি করবে জেলা প্রশাসন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুই মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দানবাক্সের নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-২৫ ০৬:৫৭:৫৭