সিলেটে হামের মধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

  • প্রকাশের সময় : ১৬/০৬/২০২৬ ০৫:৪২:১৯ PM

Share
7

সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। এরই মধ্যে বর্ষার আগাম বার্তার সাথে পাল্লা দিয়ে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি। হাম ও ডেঙ্গুর এমন যুগপৎ আক্রমণে জনজীবনে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে হামে মৃত্যুর মিছিলে অভিভাবকরা যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার (১৫ জুন) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে। বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ২৯৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সুনামগঞ্জে; যেখানে ১৭৭ জন আক্রান্ত ও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সিলেটে ১০৫ জন আক্রান্ত ও ২৬ জন, হবিগঞ্জে ২৪ জন আক্রান্ত ও ৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন আক্রান্ত ও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হামের ভীতির মধ্যেই সিলেটে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের হার বাড়ছে। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যার মধ্যে রবিবার নতুন করে ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারি হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য সরকারি পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে না।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে ২০ শয্যার একটি বিশেষ ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু করা হয়েছে হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশিদ মুনির।

এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ইতোধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশা নিধনের বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এদিনকে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী ইমাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও নাগরিক অসচেতনতা ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছ। তাদের মতে, আগাম বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সহায়ক। তাই নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম এদিনকে বলেন, “জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখনই সচেতন না হলে ডেঙ্গু শীতকালেও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

অন্যদিকে হাম ও ডেঙ্গুর প্রাথমিক উপসর্গ অনেকটা একই হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই অনেকের অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১৬ ১৭:৪২:১৯