চোরাচালানের অভিনব রুট ‘হরিপুর’: এয়াহিয়া, নুরুল ও আমিন মোল্লা সিন্ডিকেটের হাত ধরে কোথায় যাচ্ছে ভারতীয় পণ্য?

  • প্রকাশের সময় : ২৬/০৭/২০২৬ ০৯:১৫:২৬ PM

Share
28

সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর রুটটি এখন ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে এই বিশাল চোরাচালান সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে তিন গডফাদার—এয়াহিয়া, নুরুল এবং আমিন মোল্লা। এই সিন্ডিকেটের হাত ধরে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় কসমেটিকস, শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল হরিপুর রুট দিয়ে সরাসরি সিলেট মহানগরীর লালাদিঘীর পাড়, জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজারে সাপ্লাই হচ্ছে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের চোরাই মালের সবচেয়ে বড় অংশ নামানো হচ্ছে লালাদিঘীর পাড় এলাকায়।শপিং ব্যাগের আড়ালে হরিপুর রুটের অভিনব চোরাচালান:অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই চক্রটি হরিপুর রুট জুড়ে অত্যন্ত চতুর ও অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে। ভারত থেকে আনা অবৈধ কসমেটিকস ও দামি শাড়ি চোরাই কারবারিরা সাধারণ শপিং ব্যাগে ভরে সাধারণ ক্রেতা বা যাত্রীদের মতো করে পরিবহন করছে। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে এগুলো চোরাচালানের মালামাল। মূলত কোনো বড় কার্টন বা সন্দেহজনক বস্তার বদলে সাধারণ শপিং ব্যাগ ব্যবহারের এই কৌশলে হরিপুর রুট দিয়ে অনায়াসেই মাল পৌঁছে যাচ্ছে সিলেটে।লালাদিঘীর পাড়ে চোরাই পণ্যের মূল আস্তানা:স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুরের হরিপুর রুট থেকে নিয়ে আসা ভারতীয় নামী-দামী ব্র্যান্ডের কসমেটিকস ও শাড়ি সিলেট শহরের জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজারের চেয়েও এখন লালাদিঘীর পাড় এলাকায় সবচেয়ে বেশি নামানো হচ্ছে। লালাদিঘীর পাড় এলাকার কিছু নির্দিষ্ট পয়েন্ট, গোপন গোডাউন ও অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে এই চোরাই পণ্যগুলো মুহূর্তের মধ্যে শহরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।

এই সিন্ডিকেটের কারণে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকার শুল্ক হারাচ্ছে, তেমনি বৈধ ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার নেপথ্যে:নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হরিপুর রুটের এই তিন প্রভাবশালী গডফাদার এয়াহিয়া, নুরুল এবং আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাদের তৈরি করা নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক ও লাইনম্যানদের মাধ্যমে মহাসড়ক ও বিভিন্ন পয়েন্টের খবর আগেভাগেই চোরাকারবারিদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে প্রশাসনের টহল দল বা চেকপোস্ট থাকার পরও লালাদিঘীর পাড় ও জিন্দাবাজারে অনায়াসেই পৌঁছে যাচ্ছে চোরাচালানের মালামাল। মাঝে মাঝে ছোটখাটো চালান ধরা পড়লেও এই মূল হোতারা সব সময়ই পর্দার আড়ালে থেকে যায়।উদ্বিগ্ন সচেতন মহল ও ব্যবসায়ী সমাজ:সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যেও শপিং ব্যাগের অভিনব কৌশল ব্যবহার করে এই তিন গডফাদারের প্রকাশ্যে মালামাল সাপ্লাইয়ের বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

 হরিপুর ও লালাদিঘীর পাড় এলাকার সাধারণ মানুষ এবং সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজের দাবি— অবিলম্বে এয়াহিয়া, নুরুল এবং আমিন মোল্লার মতো চিহ্নিত চোরাচালানের গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে এই রুট পুরোপুরি বন্ধ করতে র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।


সিলেট প্রেস / এফ


কমেন্ট বক্স
নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২৬ ২১:১৫:২৬