চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব বিভাগের কর আদায় কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী মেজবাহ উদ্দিন আহম্মদের (আজাদ) বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, পেশাগত অসদাচরণ এবং একাধিক অভিযোগ তুলে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাতের দাবিও রয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন ভুক্তভোগী দাবি করা ইফতেখার জাবেদ। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, মেজবাহ উদ্দিন আহম্মদ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদমর্যাদা ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণে জড়িত রয়েছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগকারীর দাবি, মেজবাহ উদ্দিন আহম্মদের বিরুদ্ধে বর্তমানে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে সমবায় সমিতির সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং মাকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে পৃথক সিআর মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বের একটি নারী নির্যাতন মামলায়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি একটি সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পর তিনি সরকারি ওয়াকিটকি প্রদর্শন করে বহিরাগত লোকজন নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হন এবং সেখানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া সমিতির গোপন নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং কয়েকজন সদস্যকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগকারী ইফতেখার জাবেদ বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি আমার বড় ভাই। পারিবারিক বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময় বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগ দায়েরের পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেজবাহ উদ্দিন আহম্মদ (আজাদ) কালবেলাকে বলেন, ‘অভিযোগকারী আমার ছোট ভাই। আমি বর্তমানে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে আছি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবো।’
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সম্প্রতি রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে কেউ দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অনিয়ম করতে পারবে না। কর আদায় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















