মূলহোতা লায়েক, সুরমান, হায়দর ও আমীর

জালালপুরে জমজমাট ‘তীর জুয়া’, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

  • প্রকাশের সময় : ১০/০৬/২০২৬ ১২:০২:২১ PM

Share
7

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ঐতিহ্যবাহী জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই দেদারসে চলছে যুবসমাজ ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ ‘তীর জুয়া’।


স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই জুয়া ও মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ যেমন বিনষ্ট হচ্ছে, তেমনি দেউলিয়া হয়ে পড়ছে শত শত তরুণ ও যুবক। জুয়াড়িদের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলেই মিলছে মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানির হুমকি।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, জালালপুর ইউনিয়নের মোকামদুয়ার গ্রামের লায়েক মিয়া, খতিরাগ্রামের সুরমান আলী, সমসপুর গ্রামের হায়দর আলী এবং সদরপুরের আমীর আলীর নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেটটি পরিচালিত হচ্ছে। এরা ইউনিয়ন অফিসের আশপাশসহ পুরো জালালপুর বাজার এলাকায় জুয়া ও অপরাধের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে। এই চক্রের অন্যতম সদস্য আমীর আলী নিজের ঘরের সামনে প্রকাশ্যে তীর জুয়ার বোর্ড বসানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করছেন বলেও এলাকায় তীব্র অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, এই পুরো জুয়া সিন্ডিকেটের মূলহোতা লায়েক মিয়া। সে এলাকার সরল-সোজা ও বেকার যুবকদের বিভিন্ন ধরনের লোভ দেখিয়ে এই সর্বনাশা জুয়ায় আসক্ত করছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই জুয়ার আসর।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বাধা দিতে গেলে তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়। প্রশাসন ও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে তারা এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে বলে বুক ফুলিয়ে বেড়ায়। সাধারণ মানুষকে তারা পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর ভয় দেখায়।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে মূলহোতা লায়েক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জুয়া ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।


এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবকরা যুবসমাজকে এই সর্বনাশা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিলেট জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং এই জুয়াড়ি চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১০ ১২:০২:২১