খোজারখলা যেন লাস ভেগাস: যুবদল নেতা মজনুর ‘মিনি ক্যাসিনো’ ও ‘তীর সিলনং’ রাজত্ব, সর্বস্বান্ত যুবসমাজ!

  • প্রকাশের সময় : ১৪/০৭/২০২৬ ১০:৩৩:৫১ PM

Share
38

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবাসিক এলাকা ও প্রধান সড়কে দেদারসে চলছে অবৈধ জুয়া ও ডিজিটাল ‘তীর সিলনং’ (শিলং তীর) কারবার। স্থানীয় ২৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু আহমদের (৩২) রাজনৈতিক প্রভাব ও সরাসরি ছত্রছায়ায় খোজারখলার বিভিন্ন পয়েন্টে এই জুয়ার বোর্ডগুলো গড়ে উঠেছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খোজারখলা এলাকার বাসিন্দা মজনু আহমদ যুবদলের পদবি ব্যবহার করে এলাকায় একচ্ছত্র অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার এই বিশাল জুয়া সিন্ডিকেটের প্রধান আখড়া এখন খোজারখলার আবাসিক কলোনিগুলো। বিশেষ করে খোজারখলা ডি ব্লকের বিভিন্ন কলোনি (যেমন: খসরু মিয়ার কলোনি) এবং বেশ কয়েকটি আবাসিক বাসার ভেতরে গোপনে জুয়ার বোর্ড বসিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জানডু-মাঠু ও তাস খেলাসহ বিভিন্ন ধরণের জুয়ার আসর চালানো হচ্ছে। মজনুর নিজস্ব টোকেন ও লাইনে এই বোর্ডগুলো পরিচালিত হয়।

টাকা লেনদেনে ‘মোবাইল ব্যাংকিং’ ও টার্গেট শিক্ষার্থীরা:

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মজনুর এই সিন্ডিকেট পুলিশি ঝামেলা এড়াতে জুয়ার টাকা লেনদেনে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করছে। খোজারখলা মেইন রোড ও সংলগ্ন রেস্টুরেন্টগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে মজনুর নিয়োজিত লাইনম্যানরা প্রকাশ্যেই মোবাইলের মাধ্যমে ডিজিটাল জুয়া বা 'তীর সিলনং'-এর টোকেন কেনাবেচা করে। ভারত থেকে পরিচালিত এই ডিজিটাল জুয়ার ফাঁদে পড়ে এলাকার রিকশাচালক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগামী তরুণ ও যুবসমাজ প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হচ্ছে। অনেক স্কুলপড়ুয়া ছাত্র টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে কিংবা খাতা-কলম কেনার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে মজনুর এই মরণনেশায় ঢালছে।

মাদক ও  অভয়ারণ্য খোজারখলা:

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মজনুর এই জুয়া বোর্ডের কারণে খোজারখলা এখন অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। জুয়া খেলার পাশাপাশি এই স্পটগুলোতে গভীর রাতে মাদক কেনাবেচা এবং সেবনের আসর বসে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও পকেটমারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবাসিক এলাকায় জুয়াড়ি ও বহিরাগত বখাটেদের আনাগোনার কারণে স্থানীয় নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।ভয়ে মুখ খোলে না কেউ:মজনুর রাজনৈতিক পদের প্রভাব ও তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খোজারখলার এক ব্যবসায়ী জানান, "মজনুর জুয়া খেলার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে দলীয় প্রভাব দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়। আমরা প্রশাসনের তীব্র নিষ্ক্রিয়তায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"

এলাকাবাসী দ্রুত এই অবৈধ জুয়ার বোর্ডগুলো উচ্ছেদ এবং এর মূল হোতা যুবদল নেতা মজনু আহমদকে আইনের আওতায় আনার জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও দক্ষিণ সুরমা থানা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মজনু আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, দলের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বা অপরাধের সাথে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই।


সিলেট প্রেস / নিউজ ডেস্ক


কমেন্ট বক্স
নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৪ ২২:৩৩:৫১