ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পর থেকেই ভাটা পড়েছিল ক্যাবল ব্যবসায়। মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে টিভি দেখাসহ সকল বিনোদনের অনুষঙ্গ পেতেন সাধারণ মানুষ। তাই ঘরে বসে থাকা বয়োবৃদ্ধদেরও টিভি দেখায় আগ্রহ কমে গিয়েছিল।
এর ফলে সিলেট নগরীর ক্যাবল অপারেটরদের প্রতি মাসেই ২০ থেকে ৩০টি বিচ্ছিন্ন করতে হতো। কিন্তু কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার পর থেকেই হঠাৎ বেড়ে যায় ক্যাবল সংযোগ। কেউ নতুন সংযোগ নিচ্ছেন, কেউবা আবার পুরোনো সংযোগ আবার চালু করছেন। তাই এই কারফিউর সময়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের লাইনম্যানরা। এমনটাই জানিয়েছেন সিলেটের বিভিন্ন ক্যাবল ফিড অপারেটর ব্যবসায়ীরা।
নগরীর হাউজিং স্ট্রেইট, পাঠানটুলাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্যাবল সংযোগ দেয় ‘হাউজিং স্ট্রেইট স্যাটেলাইট সিস্টেম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরে ঘরে ইন্টারনেট আসার পর প্রতি মাসেই আমাদের লাইনের সংযোগ কমেছে। আন্দোলনের কারণে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় ১৯ তারিখের পর থেকে হঠাৎ ক্যাবল সংযোগের গ্রাহক বেড়ে যায়। ১৯ জুলাই থেকে আজ (বুধবার) পর্যন্ত আমরা ৩০টি এনালগ ক্যাবল সংযোগ ও ২০টি সেট-আপ বক্স সংযোগ দিয়েছি।’
সিলেটের ক্যাবল অপারেটর ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সিলেট ক্যাবল সিস্টেমের (এসসিএস) আওতাধীন নগরীতে প্রায় ৩৫ জন ফিড অপারেটর ব্যবসায়ী আছেন। এই ব্যবসায়ীরা তাদের নির্দিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে ক্যাবল সেবা দেন। একটি আবাসিক ক্যাবল সংযোগ (এনালগ) নেওয়া যায় সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকায়। অফিস থেকে গ্রাহকের সংযোগস্থলের দূরত্ব বাড়লে এই সংযোগ ফি বাড়ে। এ ছাড়া ২ হাজার টাকায় সেট-আপ বক্স সংযোগ দিয়ে থাকেন ক্যাবল ব্যবসায়ীরা।
নগরীর জিন্দাবাজার, মিরবক্সটুলা, তাঁতিপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ক্যাবল সংযোগকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইটি ট্রান্সমিট’। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. তানভীর আলী বলেন, ‘ইন্টারনেট আসার পড়ে ক্যাবল ব্যবসায় বলা যায় ধস নামে। যেখানে আমাদের হাজারখানেক সংযোগ ছিল, সেখানে বিগত কয়েক বছর ধরে আমদের নামেমাত্র কিছু গ্রাহক আছেন। তবে এই আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় আবারও আশার আলো দেখা দিয়েছে আমাদের মধ্যে। গত ১৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে আমরা ১৪টি সেট-আপ বক্স বিক্রি করেছি। প্রায় ১০টি এনালগ ক্যাবল কানেকশন দিয়েছি। এর মধ্যে অনেকেই রিকানেশন নিয়েছেন। আবার অনেকেই নতুন কানেকশন নিয়েছেন।’
সিলেটের ক্যাবল অপারেটর ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সিলেট ক্যাবল সিস্টেমের (এসসিএস) এমডি এ বি এম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় মানুষজন ক্যাবল সংযোগের প্রতি আবার ঝুঁকেছেন, এটা ভালো দিক। কিন্তু আমরা চাইবো ইন্টারনেট সংযোগ আসার পরও যেন তারা এই ক্যাবল সংযোগ রাখেন। এটা যে শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক তা নয়। ক্যাবল সংযোগ থাকলে যেকোনো জরুরি অবস্থায়ও আপনে ঘরে বসে সব খবর রাখতে পারবেন।’
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক




















