আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আইপিএল ফাইনালে গুজরাট টাইটানসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮ ওভারেই ৫ উইকেটে ১৬১ রান তুলে ম্যাচ শেষ করে রজত পাতিদারের দল।
টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বেঙ্গালুরু। বড় ম্যাচে ফাইনালে রান তাড়া করার ঝুঁকি থাকলেও পাতিদারের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন বোলাররা। গুজরাটের ইনিংস শুরুতে কিছুটা এগোলেও পাওয়ারপ্লেতে দুই বড় ধাক্কা খায় তারা। জশ হ্যাজলউড ফেরান অধিনায়ক শুভমান গিলকে, আর ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হন সাই সুদর্শন। ৬ ওভারে গুজরাট তোলে ২ উইকেটে ৪৫ রান।
মাঝের ওভারগুলোতে গুজরাটকে আরও চেপে ধরে বেঙ্গালুরু। নিশান্ত সিন্ধু ২০ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জস বাটলারকেও ফেরান ক্রুনাল পান্ডিয়া। এক পর্যায়ে দীর্ঘ সময় বাউন্ডারি পায়নি গুজরাট। তবে শেষ দিকে ওয়াশিংটন সুন্দর লড়াই করেন। ৩৭ বলে অপরাজিত ৫০ রান করে দলকে ১৫০ পার করান তিনি। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানে থামে গুজরাট। বেঙ্গালুরুর হয়ে রসিখ দার ৩ উইকেট নেন। ভুবনেশ্বর কুমার নেন ২ উইকেট।
লক্ষ্যে নেমে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বেঙ্গালুরু। কাগিসো রাবাদার গতিকে পাত্তা না দিয়ে কোহলি খেলেন দুর্দান্ত সব শট। চতুর্থ ওভারে ১৫৫ কিমি গতির বলকে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কায় পাঠিয়ে জানান দেন, রাতটা তাঁরই হতে যাচ্ছে। ভেঙ্কটেশ আইয়ারও শুরুতে আক্রমণাত্মক ছিলেন। ৪ ওভারেই বেঙ্গালুরুর রান দাঁড়ায় ৫৫।
পাওয়ারপ্লে শেষ হয় ৭০ রানে, যদিও এর মধ্যে ভেঙ্কটেশ ও দেবদূত পাড়িক্কল ফিরে যান। এরপর রজত পাতিদার কিছুক্ষণ গতি ধরে রাখেন। তবে রশিদ খান এক ওভারে পাতিদার ও ক্রুনালকে ফিরিয়ে ম্যাচে গুজরাটকে কিছুটা ফেরান। তবু কোহলি ছিলেন স্থির। চোটের অস্বস্তি নিয়ে খেললেও থামেননি তিনি।
টিম ডেভিডের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচকে আবার বেঙ্গালুরুর দিকে নিয়ে আসেন কোহলি। শেষ দিকে সামান্য চাপ তৈরি করেছিল গুজরাট। কোহলির একটি ক্যাচও ধরেছিলেন শুভমান গিল, কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় বল মাটিতে ছুঁয়েছে। সেই জীবন পেয়েই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ করে আসেন কোহলি। লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে নিশ্চিত করেন বেঙ্গালুরুর দ্বিতীয় টানা আইপিএল শিরোপা।
এই জয়ে আইপিএল ইতিহাসে বিরল কীর্তিতে নাম লেখালেন পাতিদার। এমএস ধোনি ও রোহিত শর্মার পর অধিনায়ক হিসেবে টানা দুই আইপিএল জয়ের তালিকায় যুক্ত হলেন তিনি। তবে ফাইনালের সবচেয়ে বড় গল্প অবশ্যই কোহলি। ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে শিরোপা এনে দেন বেঙ্গালুরুর সবচেয়ে বড় তারকা। এই ইনিংসেই ২৫ বলে ফিফটি ছুঁয়ে আইপিএলে নিজের দ্রুততম অর্ধশতকও করেন কোহলি।
স্পোর্টস ডেস্ক :



















