ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মেনে সাংবাদিকতা করা কঠিন বলেন মন্তব্য করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। বুধবার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা মানস আয়োজিত "মাদকাসক্তি প্রতিরোধ জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ও আগামী নির্বাচন" শীর্ষক মতবিনিময় ও ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
এ সময় ভোরের কাগজের সম্পাদক বলেন, মাদকসেবীরা অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক বিক্রি করে। কারাগারে গেলেও জামিন নিয়ে আসে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও ক্ষেত্র বিশেষে নিরূপায়। আইনের ফাঁকফোকরে তারা ছাড় পেয়ে আবারো মাদক বিক্রিতে জড়িয়ে পড়ে।
শ্যামল দত্ত বলেন, আমাদের অনেক রাজনীতিবিদরা নিজেরাই মাদকে আসক্ত। তাদের দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই শুধু ছাত্রলীগের নেতাদের জন্য ডোপ টেস্ট নয়, এমপি নির্বাচনের প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট করার বিধান রাখতে হবে। আমাদের মহান জাতীয় সংসদে মাদকাসক্ত ব্যক্তি থাকতে পারেনা। কারণ যারা আইন তৈরি করে তারা যদি আইন ভঙ্গ করেন তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে কিভাবে।
তিনি আরো বলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়তে হলে মাদকমুক্ত সমাজ তৈরি করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা এ আইনের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি সাংবাদিক বিরোধী আইন। মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানস-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী।
তিনি সিলেট-২ আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী ঘোষণা করে বলেন, সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি এবার নিজের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, দিনদিন তরুণদের মধ্যে মাদক সেবনের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে সিগারেট সেবনে আসক্ত হচ্ছে তরুণরা। বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। মাদকাসক্তের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। ৩০ ভাগ চালক মাদকাসক্ত। তিনি বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হবে। এ জন্য জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মিহির মোহন ও ভোরের কাগজের সিলেট ব্যুরো প্রধান ফারুক আহমদের সার্বিক পরিচালনায় ও শর্মিলা দেব পূরবী ও আয়শা মুন্নীর যৌথ সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক ইকবাল সিদ্দিকী, মানস সিলেটের প্রধান উপদেষ্টা মুহিবুর রহমান কিরন, আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, জেসিস সভাপতি এটিএম বদরুল ইসলাম, সময় টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ইকরামুল কবির, দৈনিক সিলেট মিরর-এর সম্পাদক আহমেদ নুর, সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ম্যানেজার অ্যাডমিন হেলাল উদ্দিন, বাকবিশিস সিলেট জেলা সভাপতি অধ্যাপক অজয় কুমার রায়, ইত্তেফাক সিলেট ব্যুরো প্রধান হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, সিলেটের ডাকের প্রধান প্রতিবেদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক বাংলার সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু, অধ্যাপক কাশমির রেজা, অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন, প্রভাষক তপন চন্দ্র পাল, সিলেট ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ আশরাফুল আলম নাসির। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মানস সিলেট জেলা শাখার সভাপতি হেলাল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জালালাবাদ-এর আহবাব মোস্তফা খান, খালেদ আহমদ, সজল ঘোষ, এএইএম ফিরুজ আলী, মিছবাহ উদ্দিন রনি, রোটারিয়ান রফিকুল ইসলাম, বিপুল, মানস সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মো. লালা মিয়া, সন্দীপন, শুভ চ্যানেলের ডা. মো. ফরিদ আহমদ, মো. আকদ্দুছ আলী, সুমন বিপ্লব, আজাদ আহমদ, মো. জসিম উদ্দিন, হৃষীকেশ রায় শংকর, খালেদ আহমদ, আনন্দ টিভি প্রতিনিধি টুনু তালুকদার, বাংলা টিভি আলমগীর হোসেন, ভোরের কাগজ প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, বদরুল ইসলাম মহসিন, সুহেল আহমদ, সুহেল মিয়া।




















