ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল উপলক্ষে সিলেট নগরভবন প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত ফুটবল উৎসবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর উদ্যোগে স্থাপিত জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিনে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা থেকেই নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ফুটবলপ্রেমী নগরভবন প্রাঙ্গণে ভিড় জমান।
পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে নানা বয়সের মানুষ খেলা দেখতে আসেন। খেলা শুরুর আগেই পুরো প্রাঙ্গণ দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে নগরভবন এলাকা রূপ নেয় এক মিলনমেলায়। খেলা চলাকালে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি এবং প্রিয় দলের সমর্থনে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।
এর আগে গত ৯ জুলাই নগরভবন প্রাঙ্গণে বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি প্রদর্শনের জন্য স্থাপিত জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিনের উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নগরবাসীর জন্য সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করাও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে মানুষকে একত্রিত করা, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন পুরো বিশ্ব মেতে উঠেছে, তখন সিলেটবাসীকেও একসঙ্গে খেলা উপভোগের সুযোগ করে দিতে সিসিক এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও নগরবাসীর জন্য এ ধরনের জনবান্ধব আয়োজন অব্যাহত থাকবে। পরে তিনি নগরবাসীর সঙ্গে বসে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেন।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, নগরবাসীর ব্যাপক সাড়া আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সবাই খেলা উপভোগ করছেন। এটি সিলেটের সামাজিক ঐক্যেরও একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
আয়োজনস্থলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত আলো, বসার ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
খেলা দেখতে আসা অনেক দর্শক বলেন, উন্মুক্ত পরিবেশে এত বড় পরিসরে একসঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগের এমন সুযোগ সিলেটে আগে খুব কমই হয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনেরই নয়, বরং নগরবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের এই আনন্দঘন আয়োজনে সিলেট নগরভবন প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয়েছিল এক বিশাল ফুটবল উৎসবের আসরে, যেখানে খেলার উত্তেজনার পাশাপাশি ছিল মিলন, সম্প্রীতি ও উৎসবের আবহ।
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া




















