ঈদের ছুটিতে আপনার ভ্রমণ হউক সিলেট

  • প্রকাশের সময় : ২০/০৩/২০২৫ ১১:০০:৩৯ AM

Share
179

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা ব্যক্তিগত বাহনে রাতে রওনা দিয়ে ভোরে পৌঁছে যাবেন সিলেট। সকালের নাশতা সেরে দিনভর ঘুরে দেখতে পারেন সিলেটের দুই উপজেলার চারটি পর্যটনকেন্দ্র। ব্যক্তিগত বাহন না থাকলে সারা দিনের জন্য ভাড়া নিতে পারেন সিএনজি অটোরিকশা বা মাইক্রোবাস। 

ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর: সিলেটের ভোলাগঞ্জ পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান। সেখানেই সাদা পাথর এলাকার অবস্থান। বাংলাদেশের এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান এটি। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলটি স্থানীয় ও ভ্রমণকারীদের জন্য প্রিয় এক গন্তব্য।

ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর অঞ্চলটি ধলাই নদীর তীরে অবস্থিত। এখানকার সাদা রঙের পাথরগুলো নদীর পানির প্রবাহে শ্বেত শুভ্র রূপ ধারণ করেছে। সূর্যের আলোতে সাদা পাথরগুলো এক জ্বলজ্বলে সোনালি আভা ছড়ায়, যা পর্যটকদের মনে এক অদ্ভুত মায়া সৃষ্টি করে। নদীর স্বচ্ছ পানি আর চারপাশের সবুজ পাহাড় যেন প্রকৃতির এক মহাকাব্যিক দৃশ্যের অবতারণ ঘটায়।

রাতারগুল : সিলেট শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত বাহনে প্রথমে যেতে পারেন গোয়াইনঘাট উপজেলার বিখ্যাত জলাবন রাতারগুলে। শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরত্ব। পৌঁছা যাবে এক ঘণ্টারও কম সময়ে। বর্ষা মৌসুমে রাতারগুল গ্রামের ঘাট থেকেই নৌকায় উঠতে পারবেন। শুকনো মৌসুমে খানিকটা হেঁটে বনের ভেতরে যেতে হবে। সেখানে ৭৫০ টাকায় নৌকা ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন বনের ভেতরটায়। বর্ষায় সবচেয়ে সুন্দর হিজল-করচের রাতারগুল। তবে শুকনো মৌসুমেও বনটি আপনার চোখে ধরা দেবে ভিন্নরূপে।

লালাখাল : রাতারগুল থেকে ফতেহপুর-হরিপুর-তামাবিল সড়ক হয়ে ৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে সোয়া এক ঘণ্টায় যাওয়া যাবে লালাখালে। জৈন্তাপুর উপজেলার সারি নদের আরেক নাম লালাখাল। মূলত শীতের সময় লালাখালের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। লালাখাল চা-বাগান, দুই দিকের সুউচ্চ সবুজ পাহাড় আর নদের নীলজলের মায়ায় সময় কাটবে বেশ। তামাবিল সড়কের সারিঘাট থেকে নৌকায় যাওয়া যায় লালাখাল জিরোপয়েন্ট। তবে সময় বাঁচাতে চাইলে সারিঘাট থেকে সরাসরি লালাখাল ঘাটে যেতে পারেন। ঘণ্টাপ্রতি নৌকা ভাড়া ৫৫০ টাকা।

শ্রীপুরের রাংপানি : তামাবিল সড়ক দিয়ে আট কিলোমিটার দূরত্ব জৈন্তাপুরের শ্রীপুর চা-বাগান, হ্রদ ও রাংপানি নদ। তামাবিল সড়কের দুই পাশের চা-বাগান ও এর পাশঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড় মুগ্ধতা দেবে কিছু সময়ের জন্য। শ্রীপুর লেকের উল্টো দিকে হেঁটে নামতে পারেন পাথুরে নদ রাংপানিতে। নদের স্বচ্ছ জল আর কাছের সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য বেশ মনকাড়া। পাশেই রয়েছে সুপারি বাগান ও খাসিয়াপল্লী। তবে নদে নামতে চাইলে বিজিবির অনুমতি নেওয়া উত্তম।

জাফলং : এক দিনের ভ্রমণের শেষটা করতে পারেন জাফলংয়ে। নৌকা না নিয়ে সংগ্রামপুঞ্জির সোনাটিলা হয়ে হেঁটে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিতে হরেকরঙা পাথর ও ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ দেখতে যেতে হবে জিরোপয়েন্ট। হাতে সময় থাকলে সংগ্রামপুঞ্জি ঝরনাও দেখতে পারেন। বলে রাখা ভালো, শুকনো মৌসুমে ঝরনায় পানি থাকে না। ডাউকি নদীর পাশেই রয়েছে খাসিয়াপল্লী ও পানপুঞ্জি। সময় থাকলে যাওয়া যেতে পারে সেখানেও। এর আগে জাফলংয়ে সেরে নিতে পারেন দুপুরের খাবার। খাবারের জন্য জাফলংয়ে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। জনপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে সেরে নিতে পারেন দুপুরের খাবার।


সিলেট প্রেস / ২০ মার্চ ২০২৫/ এফ কে


কমেন্ট বক্স

প্রকাশ: ২০২৫-০৩-২০ ১১:০০:৩৯